নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লাল-সবুজ পতাকার ভূখণ্ড রক্ষায় এ দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। বন্ধুত্বের বেশে কেউ দাদাগিরি করতে চাইলে তা মেনে নেয়া হবে না। পুশইন রুখে দিতে সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ বিজিবিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।’
তিনি ভারতকে ১৯৪৭ সালের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট দলের সাথে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব করার আহ্বান জানান। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ভারত ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে এবং ওসমানের খুনিকে ফেরত না দিয়ে বন্দী বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। ড. আযাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষা ছিল আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে, কিন্তু বর্তমান সরকারও ভারতীয় সেবাদাসের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুজিববাদের পথে হাঁটলে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নামবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সীমান্তে প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ও পুশইন ঘটলেও সরকার নির্বিকার। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সীমান্ত হত্যাকে স্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ভারতের কড়া সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পুশইন করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, বিএনপি মদিনা সনদের কথা বলে এখন মোদির সনদে দেশ চালাচ্ছে।
ডা: ফখরুদ্দিন মানিক ও দেলাওয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল বাতেন আনসারী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ড. নেয়ামুল বশির ও মোবারক হোসাইনসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন অভিমুখে গিয়ে শেষ হয়।



