নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাথে নাহিদ ইসলামের বৈঠক

Printed Edition
ইইউ রাষ্ট্রদুতের সাথে বৈঠক করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ : নয়া দিগন্ত
ইইউ রাষ্ট্রদুতের সাথে বৈঠক করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো: নাহিদ ইসলাম এমপির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে অনুমোদিত প্রধান সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের নানা দিক নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের নির্দেশিকা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পারস্পরিক সংলাপ এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে এনসিপি নেতারা ইইউ প্রতিনিধিদলকে ঐতিহাসিক জুলাইবিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন গ্রাফিতি (দেয়ালচিত্র) ঘুরিয়ে দেখান। এ সময় বিপ্লব চলাকালে দেশের তরুণ সমাজের আকাক্সক্ষা, চেতনা ও তাদের অভূতপূর্ব ত্যাগের নানা দিক বিদেশী প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

এই বৈঠকে এনসিপির পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। অন্য দিকে ইইউ প্রতিনিধিদলের পক্ষে রাষ্ট্রদূতের সাথে আরো অংশ নেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন মিস বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) মি. সেবাস্তিয়ান রিগার ব্রাউন।

সরকারের অর্থে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ : দুই সিটি প্রশাসকের পদত্যাগ দাবি এনসিপির

সরকারি কোষাগারের অর্থ ও সরকারি লোগো ব্যবহার করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সাথে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রশাসকদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে দলটি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা দায়িত্বে বহাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। দুই সিটির প্রশাসক সরকারি লোগো ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে মেয়র পদে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল।

আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রশাসক পদে বসে তারা মেয়র নির্বাচন করতে পারেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে আগে পদত্যাগ করতে হবে। অথচ তারা সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে ভোট চাইছেন।

নগর ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এবং মেট্রোরেল স্টেশন-সংলগ্ন এলাকাতেও পশুর হাট বসানো হয়েছে, যা নগর পরিকল্পনা ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। এসব অব্যবস্থাপনা প্রশাসকদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ সময় ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা প্রদান প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা।

স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেয়া প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেয়া নিয়ে সরকারের একটি পক্ষ বিরোধিতা করছে, আবার আরেক উপদেষ্টা বলছেন, শর্ত মেনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে। আমি মনে করি, সরকার নিজেই আওয়ামী লীগকে নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ সরকারে আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি পদ ও সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী নির্বাচনি সুবিধা নিতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।