জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে গড়ে তুলতে হবে আদর্শবান নেতৃত্ব

ছাত্রশিবিরের কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে ডা: শফিকুর রহমান

Printed Edition
আল ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত
আল ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ, সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দেশ গঠনের দায়িত্ব শুধু রাজনীতিবিদদের নয়; শিক্ষার্থী ও তরুণদেরও নিজেদের যোগ্যতা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। একই সাথে পরিকল্পিত ব্যক্তি গঠন ও টার্গেটভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশন-২০২৬-এর সমাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তি গঠনই ইসলামী আন্দোলনের মূল ভিত্তি। তাই প্রতিটি দায়িত্বশীলকে নিয়মিত সালাত আদায়ের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, সদকাসহ নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে হবে। ব্যক্তিজীবনের নৈতিক দৃঢ়তা, আমলের ধারাবাহিকতা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন একজন মানুষকে সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে, তা অর্থবহ করতে হলে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সততা, জবাবদিহি এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা। যুগের চাহিদা অনুধাবন করে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় জোর দিয়ে ছাত্রসমাজকে দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় এ-দিনব্যাপী অধিবেশনের উদ্বোধন করেন জুলাই অভ্যুত্থানে (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ মো: রায়হান হোসেনের পিতা মো: মোজাম্মেল হক। এরপর কেন্দ্রীয় সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাপন অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হতো না। তাই শহীদদের স্বপ্ন- একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় করতে হবে। দেশের সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে সংগঠনের ষাণ¥াসিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, জেলা সংগঠনের সেটআপ অনুমোদন, ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদের উপনির্বাচনে নির্বাচিত ১২ জনের নাম ঘোষণা করেন এবং সদস্যদের পরামর্শক্রমে একজন সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করেন। পরে তিনি নবনির্বাচিত ও নবমনোনীত কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের বক্তব্য, সভাপতির সমাপনী ভাষণ এবং দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে।

অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এমপি এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।