পাবনায় লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা চাষি

সংরক্ষিত পেঁয়াজে পচন

Printed Edition

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনায় সংরক্ষিত পেঁয়াজে অসময়ে ব্যাপক পচন ও অঙ্কুরোদগম দেখা দিয়েছে। এতে লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। সনাতন পদ্ধতির মাচা কিংবা আধুনিক এয়ার ফ্লো প্রযুক্তির সংরক্ষণাগারে কোনোভাবেই এই পচন ঠেকানো যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে সংরক্ষিত দেশী ও হাইব্রিড জাতের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৯ লাখ ৯৫ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, দফায় দফায় বৃষ্টি এবং তীব্র গরমের কারণে পেঁয়াজ পচনের মুখোমুখি হচ্ছে। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে পেঁয়াজ পচলেও এবার আষাঢ মাস থেকেই পচন ও ফাঙ্গাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, চাষিরা বেশি ফলনের আশায় স্বল্পমেয়াদি ও আমদানিকৃত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বেশি চাষ করেছিলেন, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী নয়। এর ওপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আধুনিক এয়ার ফ্লো মেশিনগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, প্রতিটি সংরক্ষণাগার থেকেই এখন দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এক দিকে উৎপাদন খরচ ও পচনের ধাক্কা, অন্য দিকে বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ মণপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও পচা পেঁয়াজ ৩০০-৪০০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছে না। ফলে প্রতি মণে ব্যবসায়ীদের বিপুল অর্থ লোকসান হচ্ছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, চারা রোপণ ও পেঁয়াজ তোলার সময় প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া লোডশেডিং ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি গাদাগাদি করে রাখার কারণে পচনের মাত্রা বেড়েছে। তবে বাজারে এখনো পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, ফলে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হবে না।