আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা
অবশেষে বহুল প্রতিক্ষিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত দুই লেনের দু’টি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার।
গতকাল সকালে ধউর মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দু’টি যান চলাচলের জন্য খুলে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে আজ দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ খুলে দেয়া হলো। বর্তমান সরকার ছয় মাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেয়ায় আজ একাংশ খুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও জনগণ যাতে ধাপে ধাপে প্রকল্পের সুফল পান, সে লক্ষ্যেই সার্ভিস সেতু দু’টি উন্মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, বাইপাইল ও শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ আরো দ্রুত ও নির্বিঘœ হবে। একই সাথে পণ্য পরিবহন, শ্রমিকদের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নদী, জলধারা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধউর-আশুলিয়া অংশের বিদ্যমান অ্যাট-গ্রেড সড়ক অপসারণের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমবে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ উন্মুক্ত রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটিও থাকছে না। যে কারণে টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ধরে পাড়ি দেয়া যাবে তুরাগ নদ। প্রতিক্ষিত এই এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হওয়ায় যানবাহন চালক ও স্থানীয়রা অনেক খুশি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান এবং ঢাকা-১৯ এর সংসদ ডা: দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) প্রেসিডেন্ট চি উয়েসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা, পরামর্শক, ঠিকাদার ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, একনেকে অনুমোদনের পাঁচ বছর পর রাজধানী অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বরে শুরু হয় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। নানা জটিলতায় প্রকল্পটি খুড়িয়ে চলায় ভোগান্তির শেষ ছিল না এ অঞ্চলের মানুষের। শেষমেষ গতি পাওয়ায় জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭২ ভাগ।
দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭,০৪৫.৬৭ কোটি টাকা।
সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন ছাড়াও নতুন নকশায় বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সাথে সংযোগ স্থাপন ও বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তৃতীয় তলা দৃষ্টিনন্দন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ। তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ নির্বিঘœ করতে খুলে দেয়া হয়েছে ২.৭২ কিলোমিটার।



