ইসিতে আপিল শুনানি কাল

আপিলেও ঋণখেলাপি সাব্যস্ত : কপাল পুড়ল কাজী রফিকের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঋণখেলাপি সাব্যস্ত না করতে কাজী রফিকের পক্ষে দেয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এতে আবারো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একজন খেলাপি গ্রহীতা হলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের আলোচিত এই প্রার্থী।

এর আগেও এক্সিম ব্যাংকের ৭৬৫ কোটি টাকার ব্যাংক খেলাপি হিসেবে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। এ নিয়ে বেসরকারি এই দু’টি ব্যাংকের খেলাপি গ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হলেন এই প্রার্থী। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তিনি প্রার্থী হিসেবেও অবৈধ হলেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত আরেক প্রার্থী থাকল বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ২০২৫ সালের দেওয়ানি বিধি নং ৬৭৭ (এফএম) থেকে উত্থাপিত ২০২৬ সালের ১৪৮ নম্বর আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় গত বুধবার। ব্যাংকটির গুলশান শাখার ম্যানেজার বাদি হয়ে কাজী রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে। আপিল শুনানি শেষে কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রায় দেয় আপিল বিভাগ।

গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়ানি বিধি নং ৬৭৭ (এফএম) এ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের আবেদনের সাথে আপিলের অনুমতি চেয়ে একটি দেওয়ানি আবেদন দাখিল করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যা গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সামনে শুনানি করা হয়। শুনানির পর হাইকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন সন্তুষ্টি সহকারে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন এবং কাজী রফিকের পক্ষে পাওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এতে তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে আবারো ঋণখেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত হলেন।

জানা গেছে, বেসরকারি দু’টি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ব্যাংক দু’টিকে খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার নেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়, যেন তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে দেখানো না হয়।

গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ও গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার যথাক্রমে এক্সিম ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক অ্যাপিলেট ডিভিশনে কাজী রফিকের পক্ষে নেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। শুনানি শেষে তা বাতিল করেন আদালত। এতে কাজী রফিক দু’টি ব্যাংকেই ঋণখেলাপি গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হলেন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশ নেয়া আইনগত বৈধতা থাকল না। অপরদিকে কাজী রফিকের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে আপিল করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। এই আপিলের চূড়ান্ত শুনানি আগামীকাল রোববার।