সাংবাদিককে হুমকি

মধ্যনগরে স্কুলের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সব অর্থ আত্মসাৎ

Printed Edition

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পলমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়ক নির্মাণে বরাদ্দকৃত সরকারি সব অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় এক সাংবাদিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি এবং ফোনে হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর যাতায়াত সুবিধার জন্য ‘পলমাটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ’ প্রকল্পে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুজন মিয়া সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদনে পুরো অর্থ উত্তোলন করলেও প্রকল্পের কোনো কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয় থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত সড়কে কোনো মাটি কাটা বা উন্নয়নকাজ হয়নি। এমনকি এলাকাবাসীকে প্রকল্পের বিষয়ে অবহিতও করা হয়নি। প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগ দূর হতো। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে কাজে ব্যবহারের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সুজন মিয়া প্রথমে ওই নামে কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ হয়নি বলে দাবি করেন। পরে প্রকল্পের অনুমোদনসংক্রান্ত নথির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের দোষারোপ করেন। এ সময় তিনি ‘বেশি বাড়াবাড়ির পরিণতি ভালো হবে না’ বলে হুমকি দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে অভিযোগের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।