সিলেট ব্যুরো
সিলেট নগরের কাজিরবাজার তোপখানা এলাকায় গতকাল সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে দলের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়ায় কোনো সমন্বয়হীনতা কাজ করবে না বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী আবদুল মুক্তাদির। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সমন্বয়হীনতা তো করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার, যাচাই করার, দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে।
গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব আর সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে হবিগঞ্জের এমপি ও হুইপ জি কে গউছকে। আর মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
অনেকেই জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ববণ্টনকে ভিন্ন নামে উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’ ফিরে আসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এতে সমন্বয়হীনতার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আর এই উদ্যোগে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন জামায়াত দলীয় ১১ এমপি।
তবে এই উদ্যোগে সমন্বয়হীতার শঙ্কা নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, যে যেখানে কাজ করবেন তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটা পরিকল্পনা, কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমাদের সামনে উদযাপনের সময় নেই। সামনে এখন দেশগঠনের চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে সরকারের লক্ষ্য- মানুষের প্রত্যাশা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, যেসব লজিস্টিক সমস্যা আছে জ্বালানি স্বল্পতাসহ বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করে বিপুলভাবে দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে অর্থনীতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা।
তিনি বলেন, শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির যেসব খাত দেশজ উৎপাদনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার প্রতিটিকে জোরদার করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে, মানুষের প্রত্যাশার হক আদায় করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করছে সরকার। অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে ফ্যাসিবাদ আমলে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বর্তমানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।



