নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শূন্য রেখায় শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক ঠেলে দেয়া বা পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) সদস্যরা। গতকালও শূন্য রেখায় মানবেতর জীবন-যাপন করতে দেখা গেছে অন্তঃসত্ত্বা নারী-অবুঝ শিশুকে। কাঁদামাটিতে বসেছিল তারা। অনেকে খাবার সঙ্কটের কারণে ক্ষুধার জ্বালাও সইতে পারছেন না। এই অবস্থায় গতকাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়েছে। এদিন ভারতের নয়াদিল্লীতে অবস্থিত বিএসএফ সদর দফতরে এই বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে থাকা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল প্রথম দিন বিকাল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই বিজিবির পক্ষ থেকে জোরালোভাবে বলা হয়েছে সীমান্তে অস্থিরতা কমাতে পুশইন বন্ধ করতে হবে। সীমান্তের অবস্থান তুলে ধরে বিএসএফ প্রতিনিধি দলকে জানান, ভারতে বাংলাদেশীরা কেউ অবৈধ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এ ছাড়াও সীমান্ত হত্যা শূন্য অবস্থানে আনতে হবে। ওই সূত্র জানায়, গতকাল অল্প সময়ের জন্য বৈঠকে বসা হয়। আজ পূর্ণাঙ্গ বৈঠক শুরু হবে। এই বৈঠকেই সবধরনের আলোচনা হবে।
বিজিবি সদর দফতর সূত্র জানায়, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বেলা দেড়টায় একটি ফ্লাইটে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিকাল ৫ টায় বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রথম দিনেই বিএসএফ প্রতিনিধি দলকে পুশইন বন্ধ ও সীমান্ত হত্যা শূন্য রেখায় নামিয়ে আনতে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এবারের সম্মেলনে- বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক, দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত হতে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়াও চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তি, তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম হতে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা হতে আখাউড়াগামী চারটি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সীমান্তসম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন/হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ বিষয়ে আজ পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নির্দেশিকার আওতায় দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠক বছরে দুইবার পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ ৫৬তম সম্মেলন গত বছর আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত।



