হাওরের অলওয়েদার সড়কে ভাঙনের শঙ্কা, সংস্কারের দাবি

Printed Edition
ধসে যাওয়া সড়কের একাংশ : নয়া দিগন্ত
ধসে যাওয়া সড়কের একাংশ : নয়া দিগন্ত

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মানুষের বহুল কাক্সিক্ষত অলওয়েদার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি ও প্রবল স্রোতের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশে কংক্রিটের ঢালাই ভেঙে ভেতরে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে উপরের কংক্রিটের ঢালাই ভেঙে নিচে গভীর গহ্বর তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কালভার্ট ও ছোট সেতুর সংযোগস্থলে ঢালাই ফেটে ভেতরের বালু সরে যাচ্ছে। কাস্তুল ইউনিয়নের পরশের খালসংলগ্ন সেতু এবং মিঠামইন এলাকার কয়েকটি ছোট সেতুর দুই পাশ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বাঙ্গালপাড়া লঞ্চঘাট থেকে লাউড়া-নাজিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য কিছু স্থানে ঢালাই তুলে দীর্ঘ দিন ফেলে রাখায় বৃষ্টির পানিতে সেসব স্থানে আরো খারাপ হয়ে আছে। এর আগে প্রবল স্রোতে সড়কের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে কঠিন ও স্থায়ী মাটি ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বালুমাটি। এতে করে বর্ষায় সড়কের স্থায়িত্ব আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাদের দাবি, ব্রিজের গোড়া দিয়ে প্রবাহিত পানির স্রোত ভাঙা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢুকে বালু ধুয়ে নিয়ে গেলে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়তে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব জরুরি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, সড়কের বর্তমান অবস্থা তাদের নজরে রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত গর্তগুলো সাময়িকভাবে ভরাটের উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু শুকনো মৌসুমের অপেক্ষায় থাকলে ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। বর্ষাকালেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে অলওয়েদার সড়কটিকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।