সান্ত¡নার জয় নাকি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ আধিপত্য

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিরিজের ট্রফি আগেই হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা। তবে শেষ ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি বাংলাদেশের জন্য সম্মান বাঁচানোর লড়াই, আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য দাপটের সাথে সিরিজ শেষ করার মিশন। চট্টগ্রামের সাগরিকায় ম্যাচটি শুরু হবে বেলা দুটোয়।

বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে অধিনায়ক লিটন দাসের ছিটকে যাওয়া। বাঁ-পায়ের পেছনের মাংসপেশির চোটের কারণে তিনি টানা তৃতীয় ম্যাচেও খেলতে পারছেন না। তার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়।

পরিসংখ্যান বলছে, লিটনের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলেছে। প্রথম দুই টি-২০তে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ১৫০ রানের নিচে। দুই ম্যাচ মিলিয়ে টাইগারদের ব্যাটিং গড়ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে কম। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ছয় ওভারে রান তোলার গতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, যার চাপ পড়ে মধ্য ওভারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া আবারো প্রমাণ করেছে কেন তারা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি। চলতি সফরে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলেও টি-২০তে তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানের জয়ে তারা চাপের মুহূর্ত সামাল দেয়ার সামর্থ্যও দেখিয়েছে।

তবে বাংলাদেশের সামনে অনুপ্রেরণার জায়গাও কম নয়। ঘরের মাঠে সবশেষ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে টাইগারদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। চলতি সফরেই তারা অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য তাদের আছে, প্রয়োজন শুধু ব্যাটিংয়ে আরও দায়িত্বশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিজেদের পক্ষে নেয়া।

পরিসংখ্যান আরো বলছে, টি-২০তে বাংলাদেশ যখন ১৫০ বা তার বেশি রান করতে পারে, তখন তাদের জয়ের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই শেষ ম্যাচে টপ অর্ডারের ভালো শুরু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে বোলারদেরও নতুন বলে দ্রুত উইকেট এনে দিতে হবে।

সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে ; কিন্তু শেষ ম্যাচের ফল ভবিষ্যতের আত্মবিশ্বাস গড়ে দিতে পারে। একটি জয় পুরো সিরিজের হতাশা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। আর যদি হার হয়, তাহলে টি-২০ দল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে। তাই শেষ ম্যাচটি কেবল স্কোরবোর্ডের লড়াই নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, সামর্থ্য এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় পরীক্ষা। কোটি ভক্তের প্রত্যাশা, বিদায়ী ম্যাচে অন্তত একটি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।