চট্টগ্রাম-২ আসন

বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ কি না, জানা যাবে ৯ জুলাই

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো: আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর অংশ নিলেও সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় আসনটির ফলাফল প্রকাশ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে ঋণখেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। একই সাথে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের পর তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

তবে হাইকোর্টের ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দাখিল করেন ওই একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে এই আবেদন করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। সর্বোচ্চ আদালতের ওই আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর যদি বিজয়ী বা সফল হন, তবে এই আসনটির নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তার জন্য প্রযোজ্য) আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর, গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল দায়ের করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। এই নিয়মিত আপিলের ওপর সুদীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিলটি নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগকে এই সংক্রান্ত মূল রুলটি নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সাথে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেন, হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারির দেয়া আদেশটি (ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশনা) বহাল ও চলমান থাকবে।

আপিল বিভাগের এই নির্দেশনা ও আদেশ আসার পর, রিট মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য গত ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) অন্তর্ভুক্ত হয়। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন এবং এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদনকারী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। তাদের সাথে সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী মো: আনোয়ার হোসেন। অন্য দিকে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার সাথে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো: রাজু মিয়া।

শুনানি শেষে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, রিটের ওপর সব পক্ষের চূড়ান্ত আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন, যার ওপর ভিত্তি করেই স্পষ্ট হবে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর ভোটের ভাগ্য ও ফলাফল প্রকাশের ভবিষ্যৎ।