মারামারিতে ম্লান মারুফ বাহিনীর অর্জন

টানা ৩ ড্রতে খেলা হলো না ফাইনালে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দল অতীতে ড্র করেছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের সাথে। এবার বাংলাদেশ অলিম্পিক দলও রুখে দিয়েছে এই তিন দেশের জাতীয় দলকে। পরশু লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মারুফুল হকের দল ১-১ গোলে ড্র করেছে মালদ্বীপের সাথে। এই ড্রতে অবশ্য টুর্নামেন্টে না হারার রেকর্ড ছাড়া আর কোনো লাভ হয়নি। মালদ্বীপের ডায়মন্ড জুবিলী ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলার জন্য মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের। মানিক হোসেন মোল্লা, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, আল আমিন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণরা পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ড্র করতে পেরেছে। ১৪ মিনিটে আলী ফাসিরের পেনাল্টিতে মালদ্বীপ এগিয়ে গেলেও ৫৪ মিনিটে মিরাজুল ইসলাম গোল করে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান। তবে কাক্সিক্ষত জয় না পাওয়ায় ফাইনালে খেলা হলো না তাদের। পরশু অপর ম্যাচে পাকিস্তান ২-০তে আফগানিস্তানকে হারায়। এতে পাকিস্তান ৭ ও আফগানিস্তান ৪ পয়েন্ট নিয়ে আসরের ফাইনালে চলে গেছে। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থেকেও ছিটকে পড়তে হলো বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় সারির জাতীয় দল নিয়েই ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে ড্র করাটা অবশ্যই সৌরভ দেওয়ান, মানিক হোসেন মোল্লাদের বড় অর্জন। তবে সব ম্লান হয়ে গেছে মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের সাথে বিপক্ষে খেলার ইনজুরি টাইমে মারামারি করে।

খেলা শেষ হতে তখন মিনিট খানেক বা সামান্য কিছু বেশি সময় বাকি। তখন বাংলাদেশের পোস্টের সামনে বল দখল করার সময় ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডার এবং মালদ্বীপের এক ফরোয়ার্ড। এরপর বাংলাদেশ দলের উঠতি প্রতিভা নাজমুল হোসেনর ফয়সাল এসে ধাক্কা মারেন মালদ্বীপের খেলোয়াড়টিকে। পরে মালদ্বীপের অন্য খেলোয়াড়রাও ফয়সালের ওপর চড়াও হন। পাল্টা জবাব দিতে থাকেন বাংলাদেশের ফুটবলাররাও। গ্যালারিতে যেখানে বাংলাদেশের সমর্থকরা তাদের সামনেই এই ঘটনা। এই মারামারির কারণে খেলা আর শুরুই করা যায়নি। রেফারি ওই অবস্থায় খেলা শেষের বাঁশি বাজান।

এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার আল আমিনকে। এরপর আল আমিন যা করেছেন তা মোটেই কাক্সিক্ষত নয়। মেজাজ হারানো আল আমিন তিন দফা ধাক্কা মারেন রেফারিকে। আগেই মাঠ ছেড়ে সাইড বেঞ্চে যাওয়া মিরাজুল উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন রেফারিকে। ফলে রেফারি মিরাজুলকেও লাল কার্ড দেখান। আর ম্যানেজার শাহীন হাসানকে প্রথমার্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে বহিষ্কার করেন রেফারি।

৯৭ মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড়রা মারামারি করলেও রেফারি মালদ্বীপের কোনো খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেখাননি। তিনি ওই সময় বাংলাদেশ দলের দুই জনকে লাল কার্ড ও দুইজনকে হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন।

ম্যাচের ওই সময় বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মারামারি না করে যদি জয়ের শেষ চেষ্টা করতো তাহলে তা ভালো হতো। মারামারির আগে আল আমিন ও মিরাজুলের আচরণ মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই ধরনের আচরণ কেন তারা করেছে এ জন্য বাফুফের উচিত হবে তাদের কাছে ব্যাখা চাওয়া। এটা কোনো পাড়া-মহল্লার টুর্নামেন্ট নয় যে মারামারি করতে হবে। রেফারিকে দফায় দফায় ধাক্কা দিতে হবে। এই ফুটবলাররাই মূল জাতীয় দলে খেলেছেন। তাদেরতো আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল আচরণের ক্ষেত্রে।

উল্লেখ্য মালদ্বীপের এই আসরে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাথে। অন্য দিকে পাকিস্তান ৩-০ গোলে মালদ্বীপকে এবং আফগানিস্তান ১-০তে মালদ্বীপকে হারিয়েছি।