নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমানে দেশে শিক্ষিতের হার বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। বাস্তব অবস্থা এমন যে দেশে শিক্ষার হার বাড়ার সাথে সাথে বেকারত্বের হারও বাড়ছে। আর এর মূল কারণ হচ্ছে সমাজে এখন কর্মমুখী শিক্ষার অভাব। তাই আগামী দিনে দেশে বেকারত্বের হারে লাগাম টানতে কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন শিক্ষা মন্ত্রী ড আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল শনিবার ঢাকায় পৃথক দু’টি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা বেকারত্ব কমানোর জন্য হলেও বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা বেকার বাড়াচ্ছে। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অপর দিকে গতকাল বিকেলে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে অপর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক দুর্নীতি দূর নয়, নৈতিকতার দুর্নীতি দূর করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের টাকা নেবেন, কিন্তু কেউ পাস করবে না। তাহলে কি সেই টাকা হারাম হবে না?’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদান পদ্ধতি আরো যুক্তিযুক্ত করতে হবে। শিশুদের হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর দিতে হবে গুরুত্ব। যে শিক্ষাব্যবস্থা বেকারত্ব বাড়ায় তা বাদ দিয়ে কার্যকরী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘একুশ আমাদের চেতনা। একে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলা ভাষাকে কার্যকর করতে হবে। মাতৃভাষার পাশাপাশি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে আমরা কোনটায় গুরুত্ব দেবো, সেটা নিয়েও ভাবতে হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা ঠিকমতো দিতে না পারলে দেশ গঠন সম্ভব নয়। বিশ্বমানের শিক্ষা সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে চালু করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরো বলেন, বাঙালি জাতি নিজের রক্ত দিয়ে সারা বিশ্বকে শিখিয়ে দিয়ে গেলো ভাষাকে ভালোবাসার মন্ত্র। একুশের চেতনাকে ধারণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে পৃথিবীর সব ভাষার মানুষের সাথে নিবিড় যোগসূত্র স্থাপিত হোক, বিলুপ্ত ভাষাগুলোর পুনরুজ্জীবনের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠুক নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য বিশ্ব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের হেড অব এডুকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া। স্বাগত বক্তা ছিলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গবেষণা, ডকুমেন্টেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে মাতৃভাষায় সংস্কৃতি চর্চার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা বাংলাভাষাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির মাতৃভাষা সুরক্ষার মহতী কার্যক্রম পরিচালিত করছি। বাঙালির ভাষিক চেতনা পৃথিবীময় বিস্তৃত হবে। মাতৃভাষার মর্যাদা ও চেতনা সমুন্নত রাখতে আমাদের সক্রিয়তা ও জাতীয়তাবোধ অটুট থাকবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত প্রকাশনা ও গবেষণা নীতিমালা প্রণয়ন, অনুবাদ ও বৈচিত্র্যময় ভাষা সংরক্ষণে অসামান্য ভূমিকা রাখছে। এই ইনস্টিটিউট শুধু গবেষণার কেন্দ্র না হয়ে ওঠে, বরং হয়ে ওঠে ভাষাভিত্তিক সমতা, সংহতি ও সম্মিলনের এক অনন্য মডেলে পরিণত হবে- এই প্রত্যাশা করছি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষা একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিচয় ও মর্যাদার প্রতীক। আর তাই, শিক্ষাক্ষেত্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্থান পাওয়া উচিত। বাংলা ভাষার পাশাপাশি আমাদের আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকেও সমান গুরুত্ব ও সম্মান দিতে হবে।



