ট্রাম্পের নীতি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনবে : মেদভেদেভ

Printed Edition
ট্রাম্পের নীতি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনবে : মেদভেদেভ
ট্রাম্পের নীতি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনবে : মেদভেদেভ

তাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ‘উন্মাদনা’ অব্যাহত রাখেন, তবে অবধারিতভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেন।

দিমিত্রি মেদভেদেভমেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, ‘ট্রাম্প যদি অপরাধমূলকভাবে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনের এই উন্মাদনা বজায় রাখেন, তবে নিঃসন্দেহে যুদ্ধ শুরু হবে। আর যেকোনো ঘটনাই এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। যেকোনো ঘটনা।’

মেদভেদেভের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান পবিত্র যুদ্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে’। তিনি বলেন, ইরানিরা এখন পর্যন্ত খুব বেশি কঠোর প্রতিক্রিয়া না দেখানোর অর্থ হলো তাদের সুযোগ সীমিত। তবে তারা অপেক্ষা করতে জানে, কারণ তারা একটি প্রাচীন সভ্যতা।

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেদভেদেভ জোর দিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্প একটি মারাত্মক ভুল করেছেন।’ তার মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প সব মার্কিনিকে সম্ভাব্য হুমকির মুখে ফেলেছেন, যদিও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইরানি শাসনব্যবস্থা খুব একটা জনপ্রিয় নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রায় ৩০ কোটি শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। এখন তিনি একজন শহীদ। বাকিটা আপনারা কল্পনা করে নিতে পারেন। এখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান দ্বিগুণ উৎসাহে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটবে।’

ইরান এই সঙ্ঘাত মোকাবেলা করতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মেদভেদেভ বলেন, তারা এটি সামলে নেবে, তবে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি মনে করেন, এর জন্য সামাজিক সংহতি প্রয়োজন এবং মার্কিনিরাই ইরানকে সেই সংহতি গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়াকে ‘চাটুকারিতা ও নীচতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন মেদভেদেভ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সংস্থাটি বিলুপ্ত করে নতুনভাবে গঠন করা উচিত। ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে মেদভেদেভ স্বীকার করেন যে, কিয়েভকে নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সময় দিতে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বসানোর একটি চেষ্টা চলছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘উন্মাদ ও মূর্খদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো জাদুকরী প্রতিকার নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘একটি গ্যারান্টি আছে যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে ভয় পায় এবং তারা পারমাণবিক সঙ্ঘাতের মূল্য জানে। যদি এমন কোনো যুদ্ধ হয়, তবে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ তার কাছে স্রেফ শিশুখেলা মনে হবে।’

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না : রাশিয়া

এদিকে রয়টার্স জানায়, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ মস্কো পায়নি বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে এবং দেশটির দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নস্যাৎ করতে এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল।

ইরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা ছিল সম্পূর্ণ উসকানিমূলক। এমন সময়ে হামলা চালানো হয়েছে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ছিল। উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন।