ক্রীড়া প্রতিবেদক
রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের আগের ম্যাচ গড়িয়েছিল সুপার ওভারের রোমাঞ্চে। সে ম্যাচে জয় পেয়েছিল রাজশাহী। তবে এবার আর কোনো রোমাঞ্চ নেই, কোনো নাটকীয়তা নেই! নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ব্যাটিং তাণ্ডবে রংপুরকে হেসে-খেলেই হারালো রাজশাহী। কাগজে-কলমে বিপিএলের সেরা দুই দলের লড়াইয়ে শেষ হাসিটা রাজশাহীর। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কাছে হারের পর এবার রাজশাহীর কাছে হারল রংপুর রাইডার্স। তৌহিদ হৃদয়ের ৯৭ রানের ইনিংস মলিন হলো শান্ত ও ওয়াসিমের ব্যাটে। বড় লক্ষ্যও হেসে-খেলে জিতল ওয়ারিয়র্সরা।
সিলেট আন্তজার্তিক স্টেডিয়ামে গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানের বড় পুঁজি পায় রংপুর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.১ ওভারেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুরকে শুভ সূচনা এনে দেন তৌহিদ হৃদয়। কাইল মেয়ার্সের সাথে ওপেনিংয়ে নেমে আস্থার প্রতিদান দেন। মেয়ার্স ৬ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফিরলেও হৃদয় আগলে ছিলেন এক প্রান্ত। যদিও মেয়ার্সের মতো লিটন দাস (১১) ও ইফতিখার আহমেদও (৮) তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন। অবশ্য হৃদয়ের সাথে দলের হাল ধরেন খুশদিল শাহ। সন্দীপ লামিচানে ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন মিতব্যয়িতা দেখালেও শেষদিকে রাজশাহীর বোলাররা খেই হারান। রিপন মণ্ডলের করা ১৯তম ওভার থেকে আসে ২৮ রান। শেষ ওভারে খুশদিল বিদায় নেন ২৯ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ রান করে। হৃদয় শেষ বলে কোনো রান নিতে পারেননি, রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ৫৬ বলে ৮ চার ৬ ছক্কায় ৯৭ রান করে অপরাজিত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করে রংপুর। রাজশাহীর হয়ে একটি করে উইকেট পান তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মণ্ডল, জিমি নিশাম ও সন্দীপ লামিচানে।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমকে হারায় রাজশাহী। এর পর শক্ত হাতে ঘুরে দাঁড়ায় অধিনায়ক শান্ত ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুইজনের অনবদ্য পার্টনারশিপ বরং আক্ষেপ জাগিয়েছে, লক্ষ্যটা আরো বড় হলে হয়ত একটা সেঞ্চুরি হয়ে যেত। শান্ত ৪২ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রানে আউট হলেও দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তার দল। সুবিধা করতে পারেননি জিমি নিশাম। তবে ৫৯ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন ওয়াসিম। রাজশাহী পায় ৭ উইকেটের জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স : ১৭৮/৪ (হৃদয় ৯৭*, খুশদিল ৪৪, তানজিম ১/৩৫, রিপন ১/৫৬, নিশাম ১/২৭, লামিচানে ১/৩২)।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স : ১২৮/৯ (ওয়াসিম ৮৭*, শান্ত ৭৬, আকিফ ২/৪৩, মোস্তাফিজ ১/৩৪)।
ফল : রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : নাজমুল হোসেন শান্ত।
ব্যাটেই জবাব দিচ্ছেন শান্ত
বিশ^কাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েই যেন জ¦লে উঠলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাদ পড়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে টি-২০ স্কোয়াডে থাকার ভাবনাতেই ছিলেন না তিনি। জাতীয় দলের হয়ে গত বছর মে মাসে টি-২০ তে সর্বশেষ মাঠে নেমেছেন। সর্বশেষ টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন শান্ত। পরে ব্যাটিংয়ে ফর্ম হারিয়ে ফেলায় ছিটকে যান। বিপিএলে পারফরম্যান্সের কারণেই ফের আলোচনায় এই অধিনায়ক।
এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ২৮৭ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন। গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে করেছেন ৪২ বলে ৭৬ রান। হয়েছেন ম্যাচসেরা। অবশ্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টি-২০ বিশ্বকাপের দল ঢোকার সুযোগ আছে। অবশ্য এ ব্যাপারে উদাসীন শান্ত। তার কথায়, ‘এটা নিয়ে আমি চিন্তা করিনি। আমার মূল ফোকাস কীভাবে আমি প্রতিদিন ইম্প্যাক্ট ফেলতে পারি। যেভাবে ব্যাটিং করছি, তা যথেষ্ট নয়। আরো ভালো করার সুযোগ আছে। টি-২০ ব্যর্থতা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা যৌক্তিক নয়। একটা ভালো ইনিংসেই আত্মবিশ্বাস ফিরে আসতে পারে।’



