নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অভিজ্ঞতায় মানুষের প্রত্যাশা ভেঙে গেছে দাবি করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না; এমন আন্দোলনে অংশ নেয়ার আগে মানুষ বহুবার ভাববে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শনিবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি : সঙ্কট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ শেষবারের মতো জীবন বাজি রেখে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, মানুষ যখন দেখেছে এই আন্দোলন কিছু মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং উগ্রবাদের উত্থান ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের আন্দোলনে অংশ নেয়ার কথা ভাববে।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় হিজাব পরা ও হিজাববিহীন নারীরা একসাথে রাজপথে থাকলেও পরে সেই পরিবেশ বজায় থাকেনি বলে দাবি করেন রুমিন ফারহানা। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ যেমন প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল, ২০২৪ সালের পরও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, ১২টি সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম পরে একটি ঐকমত্য কমিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে জনগণের প্রত্যাশা খর্ব করা হয়েছে। তিনি জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, ২০২৪ সালের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করার চেয়ে তার চেতনা বাস্তবায়ন অনেক বেশি কঠিন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ কাজে লাগাতে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।



