পরমাণু নীতি নিয়ে বিতর্কের তাগিদ জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জাপান

Printed Edition

আনাদোলু

ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিশ্বরাজনীতির পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের দীর্ঘ দিনের পরমাণু নীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। কিছু ইউরোপীয় দেশ যেভাবে নতুন করে পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টোকিও এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আর এড়িয়ে যেতে পারে না।

টোকিওভিত্তিক সংবাদ সংস্থা কিয়োডো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি বলেন, জাপানের চারপাশের নিরাপত্তা পরিবেশ দিন দিন আরো জটিল ও কঠোর হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়কে ‘আলোচনার অযোগ্য’ করে রাখার যে সংস্কৃতি দেশে রয়েছে, তা এখন পরিবর্তন করার সময় এসেছে। নিজেদের সুরক্ষায় ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ডের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের উদাহরণ টেনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট গত জুনে তাদের দেশে পরমাণু অস্ত্র আনার অনুমতি দিয়ে একটি বিল পাস করেছে। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ গত মার্চে তাদের পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরোপের এই প্রবণতা সামগ্রিক বিশ্ব নিরাপত্তা সমীকরণকে বদলে দিচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন পরমাণু সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল জাপান বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা সরাসরি পরমাণু হামলার শিকার হয়েছে। এই বাস্তবতায় দেশটি দীর্ঘ দিন ধরে তার ভূখণ্ডে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করা, নিজের কাছে না রাখা এবং অন্য কোনো দেশের পরমাণু অস্ত্র প্রবেশ করতে না দেয়ার তিনটি মূল নীতি কঠোরভাবে মেনে চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির এই অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছে।