জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যু

সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর কংগ্রেসের দ্বারস্থ ট্রাম্প

Printed Edition
সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর কংগ্রেসের দ্বারস্থ ট্রাম্প
সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর কংগ্রেসের দ্বারস্থ ট্রাম্প

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে ঐতিহাসিক অধিকার, তা বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্পের এই নির্দেশ মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী। ৯ সদস্যের বিচারক প্যানেলের মধ্যে ৬-৩ ভোটের এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য একটি মস্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে ‘আমাদের দেশের জন্য খুবই খারাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সঙ্কুচিত করতে আইন পাসের জন্য কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অন্যায্য এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বন্ধ করতে কংগ্রেসের আজ থেকেই কাজ শুরু করা উচিত। এ বিষয়ে তাদের প্রতি আমার সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে!’ তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ইচ্ছা পূরণ হওয়া বেশ কঠিন। কারণ মার্কিন জনমত জরিপগুলো বলছে, দেশটির বেশির ভাগ মানুষ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নিয়মকে সমর্থন করেন। তা ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুর অনুযায়ী, এই নিয়ম পুরোপুরি বদলাতে গেলে মার্কিন সংবিধান সংশোধন করতে হবে যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ট্রাম্প একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল সাময়িক আইনি মর্যাদায় থাকা কিংবা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তানরা মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না। ট্রাম্পের এই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া একটি নি¤œ আদালতের রায়ই এবার বহাল রাখলেন সর্বোচ্চ আদালত।

ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার রায়

সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে মূল রায়টি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি ইংলিশ কমন ল থেকে শুরু করে ১৮৬৮ সালে মার্কিন সংবিধানের বিখ্যাত ‘চতুর্দশ সংশোধনী’ পাস এবং ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওয়াং কিম আর্ক’ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। ২৬ পৃষ্ঠার ওই রায়ে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবী এবং ভিন্নমত পোষণকারী কট্টরপন্থী বিচারকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত আইনকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার পক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি লেখেন, ‘এই চরম সংশোধনবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে খুবই সামান্য প্রমাণ রয়েছে। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে জন্ম নেয়া প্রতিটি স্বাধীন মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।’ প্রধান বিচারপতির এই রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন রক্ষণশীল বিচারক অ্যামি কোনি ব্যারেট ও ব্রেট কাভানো এবং আদালতের উদারপন্থী তিন বিচারক সোনিয়া সোতোমায়র, কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন ও এলিনা কাগান।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বস্তি, ভয়াবহ সঙ্কটের হুঁশিয়ারি

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং, যিনি নিজে একজন জন্মসূত্রে নাগরিক এবং এই মামলার অন্যতম প্রধান আইনজীবী, তিনি বলেন, ‘এই রায় আমেরিকার একটি মৌলিক অধিকারকে পুনরুত্থিত করল যদি আপনি এখানে জন্ম নেন, তবে আপনি এই দেশেরই নাগরিক।’