ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এসব অভিযানে সন্ত্রাসী ও কিলারদের কাছ থেকে রিভলবার, পিস্তল, এসএমজি, শটগান, পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়। জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ৩৩০ জনকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে নগরে তাদের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নামও রয়েছে। মূলত তাদের সেল্টারে গড়ে উঠা সন্ত্রাসী বাহিনীরা এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলাকে অস্থিরতায় রেখেছে।
একের পর এক অস্ত্র উদ্ধার : ১ ফেব্রুয়ারি আনোয়ারা থেকে সিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগ ক্যাডার আক্তার হোসেনকে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সিএমপির ৩৩০ জনের তালিকায় ৪২ নম্বরে ছিলেন। তার কাছ থেকে একটি বিদেশী রিভলবার, একটি দেশীয় শটগান উদ্ধার করা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীতে র্যাব-৭ সরল এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশী রিভলবার ও দু’টি একনলা বন্দুক উদ্ধার করে। ১০ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলির ঘটনায় সন্ত্রাসী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির ও মোহাম্মদ সায়েমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশী থ্রি-টু বোর রিভলবার ও ৯ রাউন্ড গুলি, একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ এমএম পিস্তল এবং একটি এসএমজি উদ্ধার করা হয়। ২৫ মার্চ রাউজানের কদলপুরের ভোমরপাড়া এলাকায় ঝোপের মধ্যে পরিত্যক্ত একটি ব্যাগ থেকে র্যাব-৭ একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার ও কার্তুজ উদ্ধার করে। ২০ এপ্রিল নগরের লালখান বাজার থেকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী দিদারুল আলম মাসুমকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালখান বাজারের টাংকির পাহাড় এলাকায় সহযোগী পিচ্চির ঘর থেকে একটি বিদেশী রিভলবার ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া মার্চের বিশেষ ‘এস-ড্রাইভ’ অভিযানে সিএমপি নগরজুড়ে ৭০৫ জনকে গ্রেফতার করে। অভিযানে তিনটি বিদেশী পিস্তল, একটি বিদেশী রিভলবার, একটি পাইপগান, ৪৭৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৭৬টি শটগানের কার্তুজসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার হয়।
চট্টগ্রাম নগরীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই বছর পরও সেই লুণ্ঠিত অস্ত্রের সবগুলোর হদিস মেলেনি। থানা থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনার মামলার এজাহারভিত্তিক হিসাবের একটি সারাংশে ৬৫টি ৯ এমএম টরাস পিস্তল, ২৯টি ৭.৬২ পিস্তল, ৪৬টি চায়না রাইফেল এবং ৯৫টি শটগানসহ বিভিন্ন অন্ত্র লুটের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। একই হিসাবে এক হাজার ৭৬৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও তিন হাজার ৮০০ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যেই কখনো ময়লার স্তূপে, কখনো ঝোপে, কখনো বস্তি বা নির্জন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছে পিস্তল, রিভলভার ও গুলি। ২৬ জুলাই ২০২৬ নগরের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডবলমুরিং থানা থেকে ৫ আগস্ট লুট হওয়া দু’টি ব্রাজিলের তৈরি টরাস ব্র্যান্ডের ৯ মিলিমিটার পিস্তল উদ্ধার করেছে ডিবি ও ডবলমুরিং থানা পুলিশ। একই দিন বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব-৭। এ ছাড়া বায়েজিদের চালিতাতলী এলাকায় নিহত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার বাসার পাশে অভিযান চালিয়ে র্যাব-৭ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি পিস্তল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। সর্বশেষ গতকাল ৩ আগস্ট রাউজান থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়ানের সহযোগী মো: দিদার আলম ও মো: আফসার মিয়াকে বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। একই দিন জোরারগঞ্জ থেকে সন্ত্রাসী মো: বোরহানকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ৯ রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করে।
শুধু রিভলবার নয়, মিলেছে ভারী অস্ত্রও
৩ মার্চ বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির পর ইশতিয়াক হাসান ইমন ও জসিম নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি বিদেশী পিস্তল, একটি এসএমজি, একটি পাইপগান, তিনটি ম্যাগাজিন, ৪৫৫টি পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। এপ্রিলের শেষ দিকেও নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারী এলাকায় পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। ২৯ এপ্রিল বায়েজিদে দু’টি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।



