মুক্তিযোদ্ধার জাল সার্টিফিকেটে চাকরি নেয়ার অভিযোগ

তদন্তের মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রিমুখী তদন্তের মুখে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে বাবা মোশারফ হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা দেখিয়ে যে সার্টিফিকেটে তিনি চাকরি পেয়েছেন সেটি ছিল ভুয়া। এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর বেবিচক, গোয়েন্দা সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক থেকে শুরু হয়েছে তদন্ত।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাকরির সময় শরিফুল ইসলামের দেয়া তার পিতা মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট যাছাই-বাছাই করা প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে সেখানে গড়মিলও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকাতেও তার বাবার নাম পওায়া যায়নি। শিগগিরই এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

জানা যায়, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেয়ার অভিযোগ ওঠে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একইসাথে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদোন্নতি লাভের অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মো: শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে চাকরিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সদর দফতরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার পিতা মো: মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদের ভিত্তিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পিতা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। জালিয়াতি করে তিনি এই চাকরি নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেন, শরিফুল ইসলামের সরবরাহ করা তার পিতা মোশারফ হোসেনের নামে ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকা অস্বাভাবিক এবং এটি সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে প্রকাশিত গোপালগঞ্জের গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় মো: মোশাররফ হোসেন, পিতা মৃত মো: লোকমান মোল্লার নাম পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সনদের বৈধতা ও সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন আছে। তারা বলছেন, যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমরা আরো অধিকতর তদন্ত করছি। সবকিছু শেষ করেই দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু চাকরিই নয়, পদোন্নতি নিয়েও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলার আসামিও তিনি। জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনবিরোধীদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। অতিসম্প্রতি সে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। একইসাথে আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ থাকার পরও তাকে পদোন্নতি দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদ থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।