আতিয়ার রহমান জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
মনমাতানো ঘ্রাণ আর দীর্ঘ সময় সতেজ থাকার গুণের কারণে রজনীগন্ধার কদর দেশজুড়ে। বিয়ে, উৎসব কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে এই ফুলের ব্যবহার অপরিহার্য। সেই চাহিদাকে পুঁজি করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় রজনীগন্ধা চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। কম খরচে অধিক মুনাফা আসায় এই অঞ্চলের অনেক কৃষক এখন ধান-পাটের বদলে ফুল চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলার উথলী ইউনিয়নের এমনই একজন সফল উদ্যোক্তা আক্তারুজ্জামান যুদ্ধ। তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে রজনীগন্ধার চাষ করেছেন। সরেজমিন তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সাদা ফুলে ছেয়ে আছে। বাতাসে ভেসে আসছে ফুলের মিষ্টি সুবাস। সেখানে স্থানীয় শ্রমিকরা পরম মমতায় ফুলের পরিচর্যা ও সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত।
বাগানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মহর আলী জানান, রজনীগন্ধা চাষের প্রধান সুবিধা হলো এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম। খুব বেশি সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। একবার চারা রোপণ করলে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সারা বছরই ফুল পাওয়া যায়। একটি স্টিক কেটে নেয়ার পর একই গাছ থেকে পুনরায় নতুন স্টিক গজিয়ে ওঠে।
আর্থিক লাভের হিসাব দিয়ে মহর আলী আরো বলেন, প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে মাত্র ছয় মাসেই চার লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি। এই বিক্রি পুরো বছর চলবে। শুরুতে আমরা স্টিক বিক্রি করেছি, তখন প্রতিটি স্টিক ১৫ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এখন ঝরা বা পাপড়ি ফুলের চাহিদা ও দাম বেশি। প্রতি কেজি পাপড়ি ফুল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।’ তবে বর্তমানে রমজান মাসে অনুষ্ঠান কম থাকায় চাহিদা কিছুটা কম। তাই আপাতত ফুল তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের পর আবারো চড়া দামে বাজারজাত করা যাবে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন রজনীগন্ধাকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ হচ্ছে। অফিস বা বসতঘর সাজানো থেকে শুরু করে বাসরঘর, মালা ও তোড়া তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার ফুল চাষকে লাভজনক পেশায় রূপ দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে এ অঞ্চলে ফুলের চাষ আরো বাড়বে। স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্রচলিত ফসলের চেয়ে ফুল চাষে ঝুঁকি কম এবং মুনাফা বেশি। ফলে জীবননগরের গ্রামগুলোতে রজনীগন্ধা এখন নতুন কৃষি বিপ্লবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।



