জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে রণক্ষেত্র সুইজারল্যান্ড

Printed Edition
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক ‘নো জি-৭’ (জি-৭ বিরোধী) বিক্ষোভ চলাকালে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে পুলিশ : ইন্টারনেট
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক ‘নো জি-৭’ (জি-৭ বিরোধী) বিক্ষোভ চলাকালে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে পুলিশ : ইন্টারনেট

ডয়েচে ভেলে

ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের প্রতিবেশী দেশ সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহর তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার থেকে ফ্রান্সের রিসোর্ট শহর এভিয়ান-লেস-বাঁ-তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে তিন দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়। এর ঠিক আগের দিন রোববার হাজার হাজার মানুষ জেনেভার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে জেনেভায় অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ ভবনের কাছে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে টিয়ার গ্যাস ও পানিকামান ব্যবহার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ জাতিসঙ্ঘের টেলিকমিউনিকেশন ভবনের কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং বাধা দিলে পুলিশের দিকে ফ্লেয়ার ছোড়ে। জি-৭ বিরোধী একটি জোটের আহ্বানে আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্মেলনস্থল ইভিয়ান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের জেনেভায় হাজার হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। ফ্রান্সে সম্মেলনবিরোধী কর্মসূচির অনুমতি না থাকলেও প্রায় ২০ হাজার মানুষ সেখানে একটি মিছিলে যোগ দিতে সমবেত হয়। প্রথম দিকে মিছিলটি শান্ত থাকলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। কিছু বিক্ষোভকারী বেশ কিছু দোকানের সুরক্ষামূলক প্লাইউড প্যানেল উপড়ে ফেলে, জানালা ভাঙচুর করে এবং একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেনেভা নগর সরকার জানিয়েছে, ফ্রান্স মূল ভেনুর কাছে বিক্ষোভের অনুমতি না দেয়ায় বিক্ষোভকারীরা জেনেভাকে বেছে নেন।

সাধারণত পুঁজিবাদ, বৈশ্বিক বৈষম্য ও বিশ্বায়নের প্রতিবাদ জানাতেই জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে এই ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের শীর্ষ সাতটি ধনী দেশের নেতারা তিন দিনের এই বিশেষ বৈঠকে অংশ নিতে এভিয়ানে একত্রিত হয়েছেন। এবারের সম্মেলনের মূল এজেন্ডায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।