আলজাজিরা
চীনের সাংহাই শহরে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের (ডব্লিউএআইসি) নবম আসর শুরু হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এআই প্রযুক্তিতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। একই সাথে এই প্রযুক্তিতে একক কোনো দেশের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বজুড়ে এআই খাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করা এবং আমেরিকার প্রভাব মোকাবেলায় বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্মেলন শুরুর আগে চীন ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ (ডব্লিউএআইসিও) গঠনের সিদ্ধান্ত জানান দেয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে ২৯টি দেশ চুক্তিতে সই করেছে। এই তালিকায় ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতিসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্ব দরবারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এবারের আসরের মূল বিষয় ঠিক করা হয়েছে, ‘এআই পার্টনারশিপ ফর আ ব্রাইটার ফিউচার’।
উদ্বোধনী ভাষণে শি জিনপিং ওপেন-সোর্স এআই ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণের কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন কোনো বৈষম্য যেন তৈরি না হয় সে জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে চীন। আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এআই উন্নয়ন একক প্রদর্শনী না হয়ে আন্তর্জাতিক ঐকতান হওয়া দরকার। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো এক দেশের সুরক্ষাকে অন্যদের ওপরে স্থান দেয়ার মনোভাবকে যৌথভাবে প্রতিরোধের ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি প্রযুক্তি যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে জন্য আগাম সতর্কতা, নীতিমালা ও সার্বিক সুরক্ষার তাগিদ দেন সি। বেইজিং অনেক দিন ধরেই বৈশ্বিক এআই জোটের পরিকল্পনা করে আসছিল। সাংহাই নির্ভর ডব্লিউএআইসিও সংস্থার মূল কাজ হলো নিরাপদ প্রযুক্তি প্রয়োগে আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরিতে সাহায্য করা। জাতিসঙ্ঘের পলিসি তৈরিতে চীন এই সংস্থাকে কাজে লাগাতে পারে বলে বাজার গবেষকরা ভাবছেন।
শিল্প কাঠামোর অংশ হিসেবে চিপ তৈরি থেকে শুরু করে সার্বিক খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করে নিজেদের অবকাঠামো তৈরি করেছে চীন। এর ফলে ওয়াশিংটনের সাথে চিপ সঙ্কট আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।



