চট্টগ্রাম ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ঐতিহ্যবাহী, নৈতিকতা ও আদর্শ সমৃদ্ধ দল। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের কল্যাণে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। সংসদেও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সঙ্কীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন- অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমাদ, ড. অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আবু নোমান, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফর রহমান, মাওলানা লিয়াকত আক্তার সিদ্দিকী, হামেদ হাসান ইলাহী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, আমির হোসাইন, ফখরে জাহান সিরাজী, আমির ফারুকে আজম, মুহাম্মদ ইসমাইল ও ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন প্রমুখ।
অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাব
অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার পক্ষ থেকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার শহীদ, হাজার হাজার আহত ও পঙ্গু এবং লাখ লাখ ছাত্র-শ্রমিক-জনতার জীবন ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে যে পরিবর্তন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পরও বর্তমান সরকার এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। একই সাথে জুলাই গণহত্যার বিচারও এখনো সম্পন্ন হয়নি।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি সঙ্কট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকার গত ছয় মাসে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বারবার তাগাদা দিলেও সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বর্তমানে দেশে খুন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জনগণ অতিষ্ঠ। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সঙ্কীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় নগরবাসী কাক্সিক্ষত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বেশির ভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



