ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিকলে বাঁধা এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও শুরুতেই স্থানীয়ভাবে ‘সালিসে মীমাংসা’র উদ্যোগ নেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে- নৃশংস এই অপরাধ কি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল?
ঘটনাটি ঘটে মুক্তাগাছা পৌরসভার পাড়াটঙ্গী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ভুক্তভোগী প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক নারী, যিনি দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিনের মতো ঘটনার রাতেও তাকে ঘরের বারান্দায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একই এলাকার রজব আলী নামের এক ব্যক্তি ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। নারীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে অভিযুক্তকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
তবে ঘটনার পরপরই আইনি পদক্ষেপের বদলে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করছিল; কিন্তু নির্ধারিত সালিসের আগেই অভিযুক্ত রজব আলী পালিয়ে যায়। বর্তমানে সে সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমন ঘটনার পরও সালিসের উদ্যোগ নেয়া খুবই উদ্বেগজনক। এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।’
অবশেষে বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, ‘একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন অসহায় ও মানসিকভাবে অসুস্থ নারীকে শিকলে বেঁধে রাখার পাশাপাশি তার ওপর এমন নৃশংসতা- দু’টি বিষয়ই গভীর উদ্বেগের। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



