ফুটবলের তামিম ইকবাল

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

জনপ্রিয়তার বিচারে একই কাতারে বাংলাদেশের ফুটবল ও ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাফল্য, বিশ্বকাপে টানা উপস্থিতি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সবই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে গণমানুষের কাতারে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ব্যাপক কভারেজই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে ক্রিকেটকে। আবার শহরের গণ্ডি পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত আমজনতার কাছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অবশ্য সন্তানদের নাম রাখার ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের নামই বাবা মায়ের পছন্দ। ভূমিষ্ঠ হওয়া ছেলেদের নাম ক্রিকেটারদের নামের সাথে মিল রেখেই হয়। এমন তিন ফুটবলারকে পাওয়া গেল যাদের নাম দেশের তারকা ক্রিকেটারদের সাথে মিল রেখেই। গত কয়েক সিজন মোহামেডানে খেলা গোলরক্ষক সাকিব আল হাসানের নাম সবাই জানে। এরপর পাওয়া গেল মহাখালী একাদশের স্ট্রাইকার মাশরাফি ইসলামকে। এবার মিলল তামিম ইকবাল খান। চলমান প্যারাগন ডেইরি দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগের দল খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমির ফুটবলার তিনি। পিরোজপুর জেলা থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার খেলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে।

তামিমের বাবা একজন ক্রিকেটভক্ত। তাই জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল খানের সাথে মিল রেখেই ছেলের নাম রাখেন তামিম ইকবাল খান। জানান ফুটবলার তামিম। ক্রিকেটার তামিমের মতো ক্রিকেটও খেলতেন এই জুনিয়র তামিম। ছিলেন ওপেনার। সাথে করতেন পেস বল। তবে সিনিয়র তামিমের মতো বামহাতি ব্যাটার নয়। ব্যাট করতেন ডান হাতে। পিরোজপুরে আন্তঃস্কুল ক্রিকেটে তিনি ওপেনার হিসেবে তিন ম্যাচ খেলেছেন। এক ইনিংসে করেছেন আশি ঊর্ধ্ব রান। আর বল হাতে নিয়েছেন ২ উইকেট। ফুটবলার তামিম জানান, আমি যদি ফুটবলার না হতাম তাহলে ক্রিকেটারই হতাম। তবে এখনও আফসোস ক্রিকেটার হতে পারিনি। যদিও আমি এখনও তামিম ইকবালের ভক্ত।

ক্রিকেটার তামিমের ফুটবলার হওয়াটা ২০২২ সালে। সেবার বরিশাল ফুটবল অ্যাকাডেমির হয়ে ঢাকায় পাইওনিয়ার লিগ খেলেছেন। দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। আর নিজে গোল করেছেন ১৭টি। তামিম জানান, ওই লিগে সাফল্য পাওয়ার পর আমি আর ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে ছুটিনি। স্রেফই ফুটবলার হওয়াতেই মননিবেশ করেছি। আর আমাকে ফুটবলে দীক্ষা দিয়েছেন এলাকার কোচ নাসির আহমেদ রকি। উনার একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি আছে।

এবারের লিগে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। তবে একটি গোলের জোগানদাতা। তামিমদের চেষ্টাতেই প্রয়াত ফুটবল সংগঠন হাজী নজরুল ইসলামের ( নজু ভাই) গড়া ক্লাব খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমি রেলিগেশন এড়িয়ে টিকে গেছে দ্বিতীয় বিভাগে। এবারের লিগের আগে তিনি উত্তরা ফুটবল ক্লাবের হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের অনূর্ধ্ব-১৬ লিগে খেলেছেন। এবারের লিগের পারফরম্যান্সের কারণেই তাকে আসন্ন প্রথম বিভাগ বা সিনিয়র ডিভিশন লিগে খেলার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ারী ক্লাব।

জুনিয়র তামিম বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলে ডাক পেয়েছিলেন। জানান , ‘পল স্মলি স্যার থাকার সময় আমাকে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্যাম্পে ডেকেছিলেন। অনুশীলনও করেছিলাম এক মাস; কিন্তু ইনজুরির জন্য বাদ পড়েছি।’ ক্যারিয়ারে আনেকগুলো গোল আছে তামিমের। এর মধ্যে কিংস এরিনায় আরামবাগের বিপক্ষে বরিশাল ফুটবল অ্যাকাডেমির হয়ে দূর থেকে নেয়া শটে গোলটি তার স্মরণীয়। জানান, ওই গোলের পর জাতীয় দলের হেড কোচ হাভিয়ার কাবরেরা এসে আমাদের ধন্যবাদ দিয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন আমি যেন আমার এই পারফরম্যান্স ধরে রাখি।

জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার কষ্ট এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় তামিমকে। তাই এখন তার লক্ষ্য পুরনায় জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এবং প্রথমবারের মতো লাল সবুজ জার্সি গায়ে তোলা।