অপ্রতুল ড্রেনেজ ও খাল দখলের বিরূপ প্রভাব

কালিয়াকৈরে পানিবন্দী হাজারো পরিবার

Printed Edition
৪ দিনের বৃষ্টিতে পানিবন্দী হাজারো মানুষ : নয়া দিগন্ত
৪ দিনের বৃষ্টিতে পানিবন্দী হাজারো মানুষ : নয়া দিগন্ত

মোহাম্মদ আলী ঝিলন গাজীপুর

টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চার দিন ধরে পানি জমে থাকায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়ক ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়রা অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-জলাশয় দখলকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন।

গত শুক্রবার দুপুর পর্যন্তও জলাবদ্ধতা কাটেনি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হরিণহাটি, হাবিবপুর, বিশ্বাসপাড়া, রূপনগর, শিয়ালপাড়া, পূর্ব চান্দরা ছাপড়া মসজিদসংলগ্ন এলাকা, হরতকিতলা, পূর্ব চান্দরা জোড়া পাম্প এলাকা এবং এপেক্স কারখানার পেছনের অংশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে টানা ৩ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতের পর পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকার সড়ক, বাড়ির আঙিনা ও নিচু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক পরিবার আসবাবপত্র সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেয়ার চেষ্টা করছে। নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, কর্মজীবী নারী-পুরুষ কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, খাল ও জলাশয় দখল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির কিছু স্থাপনা নির্মাণের কারণে মহাসড়কের নিচ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

পূর্ব চান্দরা এলাকার পোশাক শ্রমিক আওলাদ বলেন, চার দিন ধরে ঘরে পানি জমে আছে। কর্মস্থলে যেতে না পারায় চাকরি নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। হরিণহাটির গৃহিণী নাজমা জানান, কোমরসমান পানিতে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে।

হরতকিতলা এলাকার বাসিন্দা সোলেমান বলেন, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি নামছে না। অন্য দিকে রূপনগরের বাসিন্দা ও পোশাক শ্রমিক মুসা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকায় পানি জমে যায়। এবার টানা বৃষ্টির কারণে চার দিনেও পানি নামেনি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে লাখ লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে।

এ দিকে কোথাও কোথাও ডাইং কারখানার দূষিত পানি, আবর্জনা ও মলমূত্র ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। অনেক শ্রমিককে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন। খাল ও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামছে না। কয়েকটি স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও ড্রেন পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রশাসনের একাধিক দল পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে বলে তিনি জানান।