চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় আটক করা ৫০ বস্তা সার পরে অন্য এক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি দেখানোর ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে অন্যত্র নেয়া হচ্ছিল এমন সার আটকের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রির কাগজপত্র দেখানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ডিলার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে শিবপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের ৫০ বস্তা সার মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা এলাকায় নেয়ার পথে বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের মাছুয়ারকুল এলাকায় আটক করেন চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিসের দুই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা ও শাহ নেওয়াজ। সারগুলোর মধ্যে ছিল ৪০ বস্তা টিএসপি, আট বস্তা ডিএপি ও দুই বস্তা ইউরিয়া।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সার বহনকারী নছিমনের চালক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ক্যাশ মেমো দেখাতে পারেননি। পরে ডিলার এস এম আব্দুল হক ক্যাশ মেমো নিয়ে এলে সারগুলো মাছুয়ারকুল গ্রামের খুচরা সার ব্যবসায়ী অরজিৎ মণ্ডলের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিবপুর ইউনিয়নের ডিলার এস এম আব্দুল হক দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলার বাইরে সার বিক্রি করে আসছিলেন। তবে তিনি এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, অরজিৎ মণ্ডল তার নিয়মিত ক্রেতা। তার কাছে বিক্রি করা সারের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। আটক হওয়া সারও অরজিতের জন্যই পাঠানো হচ্ছিল।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা বলেন, সন্দেহ হওয়ায় সারগুলো আটক করা হয়েছিল। পরে ডিলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখালে সেগুলো অরজিৎ মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি খাদিজা আক্তার বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।



