ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমস। এবারের আসরটিকে আগামী লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ২০২৮-এর মহাদেশীয় বাছাইপর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাই প্রতিটি দলের জন্যই এখানে বাড়তি এক সমীকরণ কাজ করবে। জিতলেই মিলবে অলিম্পিকের টিকিট।
এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে গেমস কাবাডির গ্রুপিং চূড়ান্ত হয়েছে। পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই কঠিন লড়াই করতে হবে বাংলাদেশকে। এক সময় এশিয়ান গেমস থেকে নিয়মিতই পদক পাওয়া দেশের একমাত্র ডিসিপ্লিন ছিল কাবাডি। কিন্তু ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়াডে পুরুষ দল এবং ২০১৮ জাকার্তা এশিয়াডে মেয়েরা পদক হারায়। যা আজ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হয়নি- এবারো আশা ক্ষীণতর।
পুরুষ কাবাডিতে বাংলাদেশ জায়গা পেয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে রয়েছে- দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে, স্বাগতিক জাপান ও এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল ভারত। ফলে গ্রুপপর্বেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে- নেপাল, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও ইরান।
অন্য দিকে নারী বিভাগেও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সাথী- ইরান, জাপান ও শক্তিশালী ভারত। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে- শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে ও নেপাল। গ্রুপ পর্যালোচনা দেখা যাচ্ছে, নারী বিভাগে বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো ফল করতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হবে বাংলাদেশের জন্য।
এ দিকে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে। নেপালের বিপক্ষে নারী কাবাডি টেস্ট সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। যদিও নেপালের এই দলটিকে জাতীয় দলের সমমনা মনে করছেন না অনেকেই।
হকিতেও চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে যাচ্ছে। এশিয়ান গেমসের অন্যতম পরাশক্তি এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও স্বাগতিক জাপানের সাথে পুরুষ বিভাগের ‘এ’ পুলে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে তাদের সাথী- দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ ভারত ও পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্বে আলাদা রাখা হয়েছে। পাকিস্তান রয়েছে ‘বি’ পুলে। যেখানে তাদের লড়তে হবে- মালয়েশিয়া, চীন, ওমান, উজবেকিস্তান ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে।
অন্য দিকে নারী বিভাগেও লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ, যেখানে ‘এ’ পুলে তাদের লড়তে হবে- চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান ও চাইনিজ তাইপের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে। নারী হকির পুল ‘বি’-তে রয়েছে- ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও উজবেকিস্তান।
চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে এই হকি মহারণের, যা চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ফরম্যাট অনুযায়ী দুই পুলে বিভক্ত হয়ে মোট ১২টি দল শিরোপার লড়াইয়ে নামবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দু’টি দল সরাসরি জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে, আর অন্যদের লড়তে হবে স্থান নির্ধারণী বা ক্লাসিফিকেশন ম্যাচে। নারী বিভাগের পদক ফয়সালা হবে ২ অক্টোবর এবং পরদিন ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে পুরুষ বিভাগের স্বর্ণপদকের মেগা ফাইনাল।
বাংলাদেশের দুই হকি দলের জন্যই সূচিটা বেশ ঠাসা। ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু পুরুষ দলের এশিয়ান গেমসের মিশন। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক জাপান, ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজরা। তবে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় মহারণটি ২৮ সেপ্টেম্বর, সেদিন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
অন্য দিকে ১৯ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী দলের লড়াই শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২১ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া, ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, ২৫ সেপ্টেম্বর কাজাখস্তান এবং ২৭ সেপ্টেম্বর চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাধা পার করার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন লাল-সবুজের মেয়েরা।
সরাসরি কোয়ার্টারে ক্রিকেট দল
২০২৬ এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেটে বড় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। পুরুষদের ক্রিকেটে টাইগাররা সরাসরি খেলবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিতে হবে বাকি ছয় দলকে। পুরুষদের বিভাগে অংশ নেবে ১০টি দল, আর নারীদের বিভাগে খেলবে আটটি দল। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে টি-২০ সংস্করণে। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে পুরুষ ও নারী-দুই বিভাগেই স্বর্ণপদক জিতেছিল ভারত।
ড্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি নকআউট পর্ব কোয়ার্টারে খেলবে। শিরোপার লড়াইয়ে এই চার দল এক ধাপ এগিয়ে থাকছে। অন্য দিকে বাকি ছয় দলকে প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিতে হবে।
পুরুষদের বিভাগে প্রথম রাউন্ডে ছয়টি দল দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ২০২৩ আসরের রৌপ্যজয়ী আফগানিস্তান, স্বাগতিক জাপান ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে আছে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাথে লড়বে। পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্ট হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত।
নারীদের ক্রিকেট শুরু হবে সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনাল দিয়ে। এই পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। অন্য ম্যাচগুলো হলো- ভারত-জাপান, শ্রীলঙ্কা-মালয়েশিয়া এবং পাকিস্তান-থাইল্যান্ড। নারীদের ক্রিকেট ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর।



