নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে তুলা চাষের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও জনবল সঙ্কট, প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত ঘাটতির কারণে চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ তুলা উৎপাদিত হচ্ছে। বাকি ৯৭ শতাংশই আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলসহ সম্ভাবনাময় এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) নিজস্ব ভবনে আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালায় এ কথা বলা হয়। বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো: রেজাউল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ মো: হাসান জাফির তুহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো: শহিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. জহির উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বোর্ডের উপপরিচালক কুতুব উদ্দিন।
হাসান জাফির তুহিন বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় তুলা আমদানিকারক দেশ। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। দেশের আবহাওয়া তুলা চাষের উপযোগী হওয়ায় অন্তত ৩০ শতাংশ চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসে ২৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে। কৃষিবিদদের পদোন্নতি সঙ্কটের কারণে অনেকে প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে চলে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ড. মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, রাসায়নিক সারের কারণে মাটিতে অম্লতা সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চল থেকেই কৃষিতে দ্বিতীয় বিপ্লব শুরু হতে পারে।
১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব। তিনি তুলা উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিটের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শূন্যপদ পূরণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো: সাইফুল্লাহ তুলা খাতের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়নের দাবি জানান। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম গবেষণার মাধ্যমে ছয় থেকে আট মাসের চাষকাল কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ড. ইবরাহিম খলিল বলেন, তুলা কৃষক, ডিলার ও ক্রেতা- তিন পক্ষের জন্যই উপকারী। ড. জহির উদ্দিন লবণাক্ত জমিতে তুলা চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরামর্শ দেন।
মো: রেজাউল আমিন জানান, গত তিন বছরে সরকার তুলা চাষে ১০, ১৭ ও ২০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে। কুতুব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ৫৭ জেলায় তুলা চাষ হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে পাঁচ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ৬০ শতাংশ নারী তুলা চাষের সাথে যুক্ত, উত্তরবঙ্গকে তুলার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কার্বন ক্রেডিট বিক্রির মাধ্যমে কৃষক প্রতি হেক্টরে ২০০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে বছরে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলার প্রয়োজন হয়। আফ্রিকায় জমি লিজ নিয়ে তুলা চাষ করা গেলে ৩০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তুলাচাষিরা বক্তব্য রাখেন।



