মাথা গোঁজার ঠাঁই চান গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ নাজমুলের মা

Printed Edition

শামীম সরদার সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা)

আমার রিকশাচালক স্বামী অনেক আগে মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে নাজমুল মিয়াকে (২৩) নিয়ে শাশুড়ির বাড়িতে থাকি। নিজের বাড়িভিটা করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিলেন নাজমুল। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় নাজমুল। আমার এই ছেলেটি বেঁচে থাকলে নিজস্ব বাড়িভিটা হতো। আমাকে যদি সরকারের পক্ষ থেকে ঘরবাড়ি করে দিতো তাহলে হয়তো ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণ হতো। এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ নাজমুল মিয়ার মা গোলেভান বেওয়া।

সম্প্রতি সরেজমিন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়- ছেলেহারা শোক আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দুঃচিন্তায় দিশেহারা গোলেভান।

জানা যায়, অতিদরিদ্র পরিবারের একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান। তার রিকশাচালক বাবা হাইদুল ইসলাম অনেক আগে মারা গেছেন। সেই থেকে মা গোলেভান বেওয়া আর ছোট দুই বোন- হিরা মনি ও আয়শা খাতুনকে নিয়ে সংসারে হাল ধরেন নাজমুল। জীবিকার তাগিদে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার সিয়াম গার্মেন্টে চাকরি করছিলেন। এরই মধ্যে চব্বিশে সারাদেশ যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে উত্তাল, তখন নাজমুল মিয়াও এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০২৪ সালে ৪ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর মারা যায় নাজমুল। এরপর ধারদেনা করে তার লাশ গ্রাামের বাড়িতে আনা হয়। সেখানে ১০ আগস্ট সকালে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে করা হয়।

গোলেভান বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। নেই বসতভিটা। দাদী শাশুড়ি রাহেলা বেওয়ার জায়গায় টিনসেড ঘর তুলে বসবাস করছি। সেখানেও নেই বিদ্যুৎব্যবস্থা। স্বামী অনেকদিন আগে মারা গেছেন। আমাদের একটাই ছেলে নাজমুল। বিয়ে না করে গার্মেন্টের চাকরি নিয়ে আমাকে দেখাশোনা করছিল। এরপর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে গিয়ে বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়।

গাইবান্ধা জুলাইযোদ্ধা সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের শহীদ নাজমুল হাসানের পরিবারে সহযোগিতা করাসহ খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। আমরা সব যোদ্ধাদের পাশে আছি। সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ নাজমুল মিয়ার পরিবারের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে বিভিন্ন দিবসে এ পরিবারকে সম্মাননা দেয়া হয়।