রাজধানীতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় ৯০৩ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবি

Printed Edition
মতিঝিলের ৪৪টি স্কুলের ৯০৩ জন পরীক্ষার্থীর বৃত্তির ফল প্রকাশিত না হওয়ায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন   : নয়া দিগন্ত
মতিঝিলের ৪৪টি স্কুলের ৯০৩ জন পরীক্ষার্থীর বৃত্তির ফল প্রকাশিত না হওয়ায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিল শিক্ষা থানা কেন্দ্রের ৪৪টি স্কুলের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল বিভ্রাটের প্রতিবাদে এবং সংশোধিত ফলাফলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনতিবিলম্বে এই ‘কারিগরি বিপর্যয়’ দূর করে নতুন করে ফলাফল প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে আয়োজিত এই মানববন্ধনে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের (কেন্দ্র কোড : ৩০০০৭৯) অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতি সম্প্রতি দেশজুড়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা জেলা মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করলেও মতিঝিলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ৯০৩ জন শিক্ষার্থীর একজনও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়নি। অথচ এই ৪৪টি স্কুলের মধ্যে অনেক নামীদামি এবং অত্যন্ত ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটি কোনো সাধারণ মেধার বিপর্যয় নয়, বরং খাতা মূল্যায়ন বা ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো কারিগরি ত্রুটি বা অবহেলা।

আমাদের সন্তানেরা দিন-রাত পড়াশোনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরীক্ষার পর তারা ভালো ফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের কোড নম্বর বা কোনো ডেটা মিসিংয়ের কারণে যদি ৯০৩ জন শিক্ষার্থীর ভাগ্য এক নিমেষে অন্ধকার হয়ে যায়, তবে এর দায় কে নেবে? আমরা এই ফলাফল মানি না। আরেক অভিভাবক প্রতিনিধি বলেন, একটি পুরো পরীক্ষাকেন্দ্রের ৪৪টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নাম বাদ পড়া অসম্ভব। এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম দায়িত্বহীনতা। আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে এই ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ করে সঠিক মেধা তালিকা প্রকাশ করা হোক।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত অভিভাবকেরা তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক বরাবর জমা দেয়ার ঘোষণা দেন।