ইফার গণশিক্ষা প্রকল্পে ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ

৩ সদস্যের কমিটি গঠন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রিন্টিং প্রেসে কাগজ কেনা ও বই ছাপানোর কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত অর্থবছরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের বই ছাপানোর জন্য কাগজ কিনতে দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘন, নিম্নমানের কাগজ গ্রহণ, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম কাগজ সরবরাহ এবং ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রেস কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘আমার পড়া’, ‘কায়দা ও দ্বীনি শিক্ষা’, ‘সহজ কুরআন শিক্ষা’ ও ‘ড্রয়িং খাতা’ মুদ্রণের জন্য ৬৫০ টন ৭০ গ্রাম সাদা কাগজ কেনার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে রশিদ পেপার মিলস লিমিটেডকে প্রায় আট কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের কার্যাদেশ দেয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতে অল্প পরিমাণ সাদা কাগজ সরবরাহ করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্নমানের নিউজপ্রিন্ট সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ১০০ টন কাগজ কম সরবরাহের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং সাদা কাগজের পরিবর্তে কম দামের নিউজপ্রিন্ট ব্যবহারের কারণে আরো এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনিয়মের সময় প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাগজ গ্রহণ কমিটির এক সদস্য আব্দুর রশিদ আল মামুন বারবার আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করে নিম্নমানের কাগজ গ্রহণ এবং দ্রুত বিল পরিশোধ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, গবেষণা ও গণশিক্ষাসহ বিভিন্ন বিভাগ নিজ নিজ কাগজ ক্রয় করে প্রেসে সরবরাহ করত। কিন্তু পরবর্তীতে সব বিভাগের কাগজ কেনার দায়িত্ব প্রিন্টিং প্রেসের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।

এদিকে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বই ও খাতার মান নিয়ে অভিযোগ এসেছে। বিশেষ করে ড্রয়িং খাতা তৈরিতে নিম্নমানের শিট কাগজ ব্যবহার, অনুশীলন খাতায় অতিরিক্ত কাগজ অপচয় এবং কাগজ বাইরে বিক্রির অভিযোগও তদন্তে এসেছে। এ ছাড়া প্রিন্টিং প্রেসের এক নিম্নপদস্থ কর্মচারীর নামে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় গত ২৯ জুন অতিরিক্ত সচিব ইমতিয়াজ হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা যায়, ওই কমিটি গতকাল একটি বৈঠক করেছে। কমিটির সদস্যসচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বৈঠক হয়েছে জানিয়ে বলেন, আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করছি। বিশেষ করে নিম্নমানের কাগজ সরবরাহসহ অন্যান্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর দোষীদের বিষয়ে জানা যাবে বলেও তিনি জানান।