নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মোট আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে পাঁচ মাসে এই রোগে মোট মৃত্যু ৯০০ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জনই ঢাকা বিভাগে এবং বাকি দুইজন সিলেট বিভাগের। তবে এ সময় কারো নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময় নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯৮ জন। এর মধ্যে ৭২৮ জনের দেহে হামের উপসর্গ মিলেছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৭০ জনের। এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০০ শিশু, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৪৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৯০২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮০৩ জন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ শিশুর। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১৭ হাজার ৮০০ জন। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৬ শিশু। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন।
সিলেটে আরো ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতির ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরো ২৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে এই বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭৬ জন।
গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৮৪ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেটের পাঁচ মাসের সাইখান হোসেন। সে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। বাবার নাম হাবিবুর রহমান, বাড়ি সদর উপজেলার টুকেরবাজার।
অপর শিশু ১১ মাসের তানহা আক্তার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাবার নাম কনকেল আহমদ। বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ঘোশামার এলাকায়।



