আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যাতে তাইওয়ানের রফতানি পণ্যে শুল্ক কমানো হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনায় বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। চুক্তি অনুযায়ী, তাইওয়ানি পণ্যে সাধারণ শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। এর বিনিময়ে তাইপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, বিমান ও যন্ত্রপাতি কিনবে।
তাইওয়ান ৯৯ শতাংশ শুল্ক প্রতিবন্ধকতা তুলে দেবে বা কমাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্যপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য ও শূকরের মাংসের বাজারে বিশেষ সুবিধা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানের অনেক পণ্যকে শুল্কমুক্ত করবে, যার মধ্যে রয়েছে চক, ক্যাস্টর অয়েল, আনারস ও জিনসেং। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে বলেছেন, প্রায় দুই হাজার তাইওয়ানি পণ্য শুল্কমুক্ত হয়েছে। তিনি একে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। লাই জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির ফলে তাইওয়ানি পণ্যে গড় শুল্ক হার ১২.৩ শতাংশে নেমে আসবে। তিনি বলেন, ‘অর্কিড, চা, বাবল টি উপকরণ, কফি, আনারস কেক, কচু, আনারস ও আম- এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে।’
তবে তিনি চিপ শিল্পের কথা উল্লেখ করেননি, যা তাইওয়ানের মোট অর্থনীতির প্রায় ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালে এআই চিপের চাহিদায় তাইওয়ানের রফতানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৬৪০.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। চুক্তিতে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রে চিপ শিল্পে বিনিয়োগের কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি নেই। যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তাইওয়ানি কোম্পানিগুলো ২৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে এবং বিশেষ করে উচ্চ প্রযুক্তি খাতে সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা বাড়াবে। ২০২৫ সালে তাইওয়ানের এক-তৃতীয়াংশ রফতানি যুক্তরাষ্ট্রে গেছে, যা ২০০০ সালের পর প্রথমবার দেশটির সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।



