সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি

Printed Edition
সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি
সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি

মো: আবদুস সালিম

তোমরা কি ‘মালয়ান কাঠবিড়ালি’র নাম শুনেছ? একে ‘মালয় কাঠবিড়ালি’ও বলতে পারো। জেনে অবাক হবে, পৃথিবীতে যত ধরণের কাঠবিড়ালি আছে তার মধ্যে এ কাঠবিড়ালিই সব থেকে বড়। অন্যান্য কাঠবিড়ালির ওজন এক কেজির মতো। কিন্তু এটির ওজন দুই কেজি বা তার চেয়েও কিছু বেশি। মাথাসহ শরীর লম্বায় প্রায় ৬০-৬২ সেন্টিমিটার। লেজও প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা। লেজ বেশি লম্বা বলে অনেকে এ প্রাণীকে লম্বালেজি কাঠবিড়ালিও বলেন। মালয়ান কাঠবিড়ালির ইংরেজি নাম ব্ল্যাক জায়ান্ট স্কুইরেল (Black giant squirrel)। মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলও (Malayan giant squirrel) বলা হয়। আর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Ratufa bicolor’।

ওরা দেখতে কিন্তু অন্যান্য কাঠবিড়ালের মতো নয়। ওজন বা আকৃতি, বড় বা লম্বা কান, লম্বা লেজ, শরীরের রঙ, স্বভাব বা আচরণ ইত্যাদি দেখে অনেকে এদেরকে কাঠবিড়ালি বলতে চান না। তারা মনে করেন, ওরা বানর-জাতীয় কোনো প্রাণী হবে। একটি পূর্ণবয়স্ক মালয়ান কাঠবিড়ালি সব মিলিয়ে প্রায় দেড় মিটার লম্বা হয়। এদের কান, মাথা, লেজসহ পিঠের ওপরের অংশ কালো বা হালকা ছাই রংয়ের। পেটের দিকটা সাদা।

এত বড় কাঠবিড়ালি বিশ্বে এখন বিরল। এরা প্রাকৃতিক বনে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু ক্রমান্বয়ে বন ধ্বংস হওয়ার কারণে এদের প্রজনন দ্রুত কমছে। ডালপালা, লতা ইত্যাদি দিয়ে বাসা তৈরি করে উঁচু গাছের মগডালে। এরা মূলত তৃণভোজী। খাদ্য হিসেবে এদের বেশি পছন্দ কঁচি পাতা, ফল, বীজ, বাদাম ইত্যাদি। এদের প্রজননকাল বছরে মূলত একবার। মাঝেমধ্যে দুবারও হয়। প্রজননের সময় মার্চ থেকে আগষ্ট। বাচ্চা প্রসব করে গর্ভধারণের ৪০-৪৫ দিনে। মায়েরাই কেবল দেখভাল করে বাচ্চা। কারণ বাবারা স্বভাবে কিছুটা হিংস্র। তবে এরা চটপটে স্বভাবের। বিপদ দেখলে নানা রকম আওয়াজ করতে থাকে। মালয়ান কঠবিড়ালিদের দেখা মেলে বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, মিয়ানমার, ভারত, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের গহিন বনে। বিশ্বে প্রায় ২৫০ প্রজাতির কাঠবিড়ালি থাকলেও বাংলাদেশে আছে ৭-৮ প্রজাতির।