জীবিকার তাগিদে শাকসবজি কিনতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সবজি বিক্রেতা মো: জাহাঙ্গীর আলম। তার পরিবারের একমাত্র দাবি- হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলাপাড়ার বাসিন্দা মো: জাহাঙ্গীর আলম ফুটপাথে ও ফেরি করে শাকসবজি বিক্রি করে চার সদস্যের সংসার চলাতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়ে জাহাঙ্গীরের আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কাজলা ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যুর পর থেকে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে কাজলা এলাকার আড়ত থেকে শাকসবজি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাজলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংর্ষের মধ্যে পড়েন তিনি। এ সময় একটি গুলি তার বুকে বিদ্ধ হয়ে পিঠ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকেন।
জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, তার স্বামী কোনো আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই জীবিকার প্রয়োজনেই তিনি সেদিন বাজারে গিয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। তাকে মাতুয়াইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।
১৯৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া জাহাঙ্গীর আলম ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারান। এরপর বড় বোন পারভিন আক্তার তাকে লালনপালন করেন। তার বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট মেয়ে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।
স্বামীকে হারিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাসলিমা বেগম। তিনি জানান, শারীরিকভাবেও তিনি অসুস্থ এবং নানা জটিল রোগে ে ভোগছেন। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের পড়াশোনা ও সংসারের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী ও বড় বোনের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। তাদের ভাষায়, স্বজন হারানোর শোক কখনো মুছে যাবে না, তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে অন্তত দীর্ঘদিনের বেদনা কিছুটা কমবে।



