মে মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহত সর্বোচ্চ

Printed Edition

ইউএন নিউজ

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর গত চার বছরের মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে অন্তত ২৭৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ৭৬৩ জন আহত হয়েছেন।

গত শুক্রবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ বেসামরিক হতাহতের রেকর্ড। ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় (১৯১ জন নিহত ও ৮৬৫ জন আহত) এই সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। জাতিসঙ্ঘের তথ্য মতে, মোট হতাহতের প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটেছে ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলার মাধ্যমে, যার বড় অংশই হয়েছে রাজধানী কিয়েভ ও দনিপ্রোর মতো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরের শহরগুলোতে। অন্য দিকে সম্মুখ সমরে ফ্রন্টলাইনগুলোতে স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলা বেসামরিক মানুষের জন্য প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে। কেবল মে মাসেই ড্রোন হামলায় ৬৪ জন নিহত এবং ৫৩৯ জন আহত হয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পর একক মাসে সর্বোচ্চ।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার হামলার পর দ্রুততম সময়ে কিয়েভ দখলের যে পরিকল্পনা মস্কো করেছিল, ইউক্রেনের তীব্র প্রতিরোধে তা ভেস্তে যায়। এ দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া নতুন যুদ্ধ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কিছুটা আড়ালে ঠেলে দিলেও এর তীব্রতা কমেনি। বরং গত ১১ জুন এই যুদ্ধ এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর) মোট ১ হাজার ৫৬৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। গত ১১ জুন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই স্থায়িত্বকালকে ছাড়িয়ে গেছে এবং আজকের হিসাব অনুযায়ী এই যুদ্ধ ১ হাজার ৫৭০ দিনে পদার্পণ করেছে, যা আধুনিক সভ্যতার জন্য এক গ্লানিকর রেকর্ড। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে মতভেদ থাকলেও বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি ও ব্যয়ের পরিমাণ ইতোমধ্যে তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্র মতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত ও নিখোঁজসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি।