বগুড়া অফিস
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত পরিচালনা পরিষদের ৫১তম সভায় নেয়া হলেও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিগত ১০ বছরেও সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নেসকোর তৎকালীন পরিচালনা পরিষদ। বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে এ প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। অথচ বগুড়ায় স্থানান্তর করা হলে উপকৃত হবেন উত্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৫ জেলার মানুষ। এতে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। কমবে খরচ, বাড়বে রাজস্ব আয়। এ ছাড়া সিস্টেম লস কমায় সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নেসকো। উত্তরাঞ্চলের রাজশহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় ২৯টি উপজেলায় ৬০টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে রাজশাহী জেলা সদরে নেসকোর প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী দফতর, হেতেম খাঁ, রাজশাহীর পুরনো ভবনে অবস্থিত। ওই ভবনে নেসকোর বিভিন্ন ওভারহেড অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রাজশাহীতে নেসকোর কোনো নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়নি। যেহেতু নেসকোর অপারেশন এলাকা উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত সেহেতু নেসকোর সদর দফতরের ভৌগোলিক এরিয়ার দক্ষিণের জেলা সদর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের আওতাধীন আটটি জেলার অপারেশনাল কার্যক্রম যথাযথভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভৌগোলিক কারণে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নেসকোর সদর দফতর রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠালে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
জানা যায়, রংপুর জোনের সিস্টেম লস রাজশাহী জোনের তুলনায় গড়ে শতকরা ২ থেকে ২ দশমিক ৫ বেশি। প্রধান প্রকৌশলী বিতরণ জোন, রংপুর দফতরের আওতাধীন নির্বাহী প্রকৌশলী/আবাসিক প্রকৌশলীর দফতরগুলো বিশেষ করে তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, সেতাবগঞ্জ, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম, ডোমার, জলঢাকা, বড়খাতা, কিশোরগঞ্জ, বুড়িমারী দফতর রাজশাহীর প্রধান কার্যালয় থেকে সড়কপথে গড় দূরত্ব ২৩৫ কিলোমিটার হওয়ায় ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে রাজশাহী প্রধান কার্যালয় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রংপুর জোনের বিভিন্ন দফতরে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা সম্ভব হয় না। প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে রংপুর জোনের বিভিন্ন দফতর এবং রংপুর জোনের বিভিন্ন দফতর থেকে কর্মকর্তাদের দাফতরিক কাজে প্রতিনিয়ত রাজশাহীতে যাতায়াতে যানবাহনের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নেসকোর ৫১তম বোর্ড সভায় দু’টি বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে প্রধান কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে অনুযায়ী বগুড়া জেলা সদরের আওতাধীন নেসকোর পুরনো বগুড়া বিদ্যুৎ ভবন ও তৎসংলগ্ন ক্যাম্পাসটি বিবেচনা করা হয়। এই ক্যাম্পাসের মোট আয়তন ৫১ দশমিক ৫৯ একর যার ৭ দশমিক ৫ একর পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাব-স্টেশনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই ক্যাম্পাসে বর্তমানে নতুন একটি তিন তলাবিশিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া অপর একটি তিন তলাবিশিষ্ট পুরনো ভবন রয়েছে, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বগুড়ার কার্যালয় স্থানান্তরপূর্বক নতুন তিনতলা ভবনে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালকদের দফতর এ মুহূর্তে স্থানান্তর করা সম্ভব। এ ছাড়াও দু’টি দ্বিতল বিশ্রামাগার ভবন এবং দু’টি আবাসিক ভবন রয়েছে। যেহেতু পুরনো বগুড়া বিদ্যুৎ ভবন সংলগ্ন ক্যাম্পাসটিতে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে সে হেতু নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর করলে এ মুহূর্তে কোনো বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে না।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থান বগুড়া জেলায় নেসকোর সদর দফতর প্রতিস্থাপন করা হলে সার্বিক অপারেশনাল কাজে গতি বাড়াসহ গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন হবে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল জানান, সিস্টেম লস হ্রাস ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা ও জ্বালানি খরচ সাশ্রয়, ভ্রমণ ব্যয় হ্রাস ও সর্বোপরি গ্রাহক সেবার মান নিশ্চিত করার স্বার্থে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়া জেলা সদরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ব্যবসাবাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি। এ জন্য নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় এই জেলায় হওয়া জরুরি। বগুড়ার সাথে উত্তরাঞ্চলের মানুষের সহজ যোগাযোগব্যবস্থার সেতুবন্ধন রয়েছে। তাই নেসকোর সদর দফতর প্রতিস্থাপন করার জন্য জোরদাবি জানাচ্ছি।



