রাঙ্গাবালীতে পন্টুন বিচ্ছিন্ন দুর্ভোগে হাজারো লঞ্চযাত্রী

Printed Edition
আগুনমুখা নদীর প্রবল স্রোতে জেটি ভেঙে পন্টুন বিচ্ছিন্ন : নয়া দিগন্ত
আগুনমুখা নদীর প্রবল স্রোতে জেটি ভেঙে পন্টুন বিচ্ছিন্ন : নয়া দিগন্ত

মাহমুদ হাসান পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটের জেটি থেকে পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নৌপথের অসংখ্য যাত্রী। বিকল্প উপায়ে নৌযানে ওঠানামা করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা, বিশেষ করে শিশু ও নারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন রাতে আগুনমুখা নদীর প্রবল স্রোতে জেটি ভেঙে পন্টুনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুনটি উদ্ধার করে ঘাটের পাশে বেঁধে রাখলেও যাত্রী ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা করেনি। ঘাট ইজারার অংশীদার বশির প্যাদা জানান, জেটিটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়ায় পন্টুন স্থির রাখার খুঁটিগুলো হেলে পড়ে, পরে জোয়ারের চাপে জেটি তলিয়ে পন্টুন ভেসে যায়। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে ঢাকাগামী লঞ্চসহ স্থানীয় নৌরুটের যাত্রীবাহী নৌযান ও মালবাহী ট্রলার চলাচল করে। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই ভোগান্তি চলছে।

পন্টুন-সংযোজন না থাকায় ট্রলারে উঠানামায় চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান ট্রলার মালিক রকিবুল হাসান। বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান আজাদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে লঞ্চে তার ব্যবসায়িক পণ্য কোড়ালিয়া ঘাটে আসে। কিন্তু পন্টুন না থাকায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল হাসান বলেন, দ্রুত পন্টুন স্থাপনের জন্য বিআইডব্লিউটিএকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে তারা কারিগরি জটিলতার কথা জানিয়েছে। পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপপরিচালক জাকি শাহারিয়ার জানান, এলাকাটি ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় পন্টুনটি এখনই উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, নতুন অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করা হবে। তবে এতে প্রায় দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে।