বেসরকারি কোম্পানিকে সাইবার হামলার সুযোগ দিয়ে ট্রাম্পের স্মারক

Printed Edition

দ্য গার্ডিয়ান

বিদেশী অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পাল্টা সাইবার হামলা চালাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক এক প্রশাসনিক স্মারকে (মেমোরেন্ডাম) সই করে এ ক্ষমতা দেন তিনি। এর মাধ্যমে এতদিন সাইবার অপরাধ দমনে যেসব কার্যক্রম কেবল মার্কিন সরকারের তৈরি করা বাহিনীর এখতিয়ারে ছিল, তাতে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা যুক্ত করার পথ উন্মুক্ত হলো।

হোয়াইট হাউজ স্পষ্ট করেছে, এই নির্দেশের আওতায় অনিয়ন্ত্রিত বা সীমাহীন হ্যাকিংয়ের সুযোগ মিলবে না; বরং মার্কিন প্রশাসনের কঠোর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশের অধীনে থেকে ‘সীমিত সাইবার অভিযান’ চালানো যাবে। মূল লক্ষ্য মূলত আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের (টিসিও) র‌্যানসমওয়্যার হামলা, আর্থিক প্রতারণা ও ভূগর্ভস্থ হুমকি নস্যাৎ করা। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইচ্ছুক বেসরকারি সংস্থাগুলোকে অন্তত ১০ লাখ ডলারের জামানত বা বন্ড রাখতে হবে। পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ও বিচার বিভাগের অধীনে তৈরি নতুন কাঠামোর আওতায় সাইবার নজরদারি থেকে শুরু করে লক্ষ্যবস্তুর ভৌত বা ডিজিটাল অবকাঠামো অকার্যকর করার মতো কার্যক্রম পরিচালনায় চুক্তিভিত্তিক সুযোগ পাবে এসব কোম্পানি।

সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর অবকাঠামোগুলোতে হ্যাকিং হামলার ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। সে প্রেক্ষাপটে গত মার্চে ঘোষিত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তানীতির অংশ হিসেবেই বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দেয়ার এমন পদক্ষেপ বলে জানা গেছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের যুগে আন্তর্জাতিক সাইবার লড়াইয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে সঙ্ঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি অগোচরে মারাত্মক ভুলত্রুটি ঘটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডিএইচএস ও হোয়াইট হাউজের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।