দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে ঢাকা শহরে স্থাপন করা হবে ‘স্মার্ট পোস্ট বক্স’। এ ছাড়া ‘আমার ডাক’ অ্যাপের মাধ্যমে সেবাদান প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে পর্যায়ক্রমে পুরো ডাক সেবা কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, ডাক অধিদফতরের জন্য একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম (ডাক কমার্স) মডেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ডাক সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা সম্ভব হবে।
ডাক বিভাগের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমানে দু’টি প্রকল্প চলমান রয়েছে জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রকল্প দু’টি হলো ‘মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস টেকসই ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প’ এবং ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাক সেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ প্রকল্প’।
তিনি আরো জানান, চলমান এ প্রকল্প দু’টির আওতায় ডাক বিভাগের সব ডাকঘরে ব্যবহৃত ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যারের আপগ্রেডেশন (উন্নয়ন) করা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে সারা দেশে ডাক পণ্যের ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাকিং সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হবে। একইসাথে জাতীয় ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
৪র্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলা : আইটি দক্ষতায় জোর, ১৩ দেশে চাকরির সুযোগ পাবেন তরুণরা : চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় দেশের তরুণদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে এক হাজার তরুণকে দেয়া হবে বিশেষ আইটি প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি দেশের আইসিটি কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েটদের প্রবেশের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে।
নারী আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দিকার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। নূরুন্নিসা সিদ্দিকা (৩৩৭ মহিলা আসন-৩৭) জানতে চান চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় দেশের তরুণদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা, আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি ডিজিটাল সেবার স্বচ্ছতা ও সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বর্তমানে কী কী কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক নেয়া দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিসিসির মাধ্যমে এক হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েটদের ওঞঊঊ (ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঞবপযহড়ষড়মু ঊহমরহববৎং ঊীধসরহধঃরড়হ) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। মন্ত্রী সংসদকে জানান, ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। একইসাথে নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ৭০০ জনকে ডওঋও (ডড়সবহ রহ ওঈঞ ঋৎড়হঃরবৎ ওহরঃরধঃরাব) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
৪টি মোবাইল কোম্পানির বৈধ রেজিস্টার্ড সিম ৩২ কোটি ৮২ লাখ : দেশে ৪টি মোবাইল কোম্পানির বৈধ রেজিস্টার্ড সিমসংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
দক্ষ কর্মী তৈরি না হলে বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী মানুষের বদলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এ অবস্থায় দক্ষ কর্মীর জোগান বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিলোফার চৌধুরী মনি।
গতকাল ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশ উত্থাপন করে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার নোটিশটি গ্রহণ না করলেও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিকে এ বিষয়ে দুই মিনিট বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেন। বক্তব্যে নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখছে আমাদের এই প্রবাসী আয়। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাড়ি দেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অদক্ষ এবং অশিক্ষিত। অথচ বিশ্বব্যাপী শ্রমিকের চাহিদা কমছে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকের জোগান বাড়াতে না পারলে, শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁঁকি রয়েছে।
এ সময় তিনি স্পিকারের মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণবিষয়ক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সব জেলা এবং থানায় কিভাবে এসব কর্মীর প্রশিক্ষণ দেয়া যায় এবং কত দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।



