আদ্-দ্বীনের রোগীদের ৬ সরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ

রোগীরা যেতে চাচ্ছেন না : আজ আপিল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের রাজধানীর ৬ সরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর নির্দেশ দিয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায়।

আদ-দ্বীনে চিকিৎসাধীন চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রোগীদের স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ দিকে আদ্-দ্বীনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, আজ রোববারই সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করা হবে ই-মেইলের মাধ্যমে।

এ দিকে লাইসেন্স বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রোগীদের অনেকেই আদ্-দ্বীন থেকে কোথাও যেতে চাচ্ছেন না। গতকাল বিকেল পর্যন্ত এই হাসপাতালে মোট ২৩৪ জন রোগী ছিলেন। এর মধ্যে এনআইসিইউতে ৪৮ শিশু ও নবজাতক, আইসিইউ ও এইচডিইউতে ১২ জন এবং সিসিইউতে ৬ জন রোগী ছিলেন বলে হাসপাতালের গণসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়। আদ্-দ্বীনে ডেলিভারি হবে এমন গর্ভবর্তীদের গতকালও হাসপাতালটিতে আসতে দেখা গেছে সরকারিভাবে লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ জানার পরও। অন্য দিকে রোগীর স্বজনরা এখান থেকে অন্যত্র যেতে চাচ্ছেন না। তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে চরম হয়রানি করা হয়। সেখানে তারা যেতে চান না, আদ্-দ্বীনে কম খরচে উত্তম সেবা পাচ্ছেন। একজন ডালাইসিস রোগীর স্বজন আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখানে মাত্র ২২০ টাকায় ডায়ালাইসিস করা যায়। এত কম খরচে অন্য কোথাও এত ভালো পরিবেশে ডায়ালাইসিস পাওয়া সম্ভব নয়, আমরা এখানেই চিকিৎসা করাতে চাই।

তবে কিছু রোগী ইতোমধ্যেই হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন লাইসেন্স বাতিলের কথা জানার পর। নতুন রোগী এলেও ভর্তি করা হচ্ছে না। অনেকেই অভিযোগ করেন, আকস্মিকভাবে হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত তাদের চরম মানবিক ও চিকিৎসাজনিত সঙ্কটের মুখে ফেলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে আগত বা রেফার্ড রোগীদের কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে স্থানান্তরিত শিশু ও প্রসূতি মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ ও এনআইসিইউ সেবা অবিলম্বে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে চিকিৎসা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা বা বিলম্ব সহ্য করা হবে না।

চিকিৎসকরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে শত শত রোগীকে স্বল্প সময়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও জনবলের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সঙ্কটময় এই সময়ে রোগীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্থানান্তরিত রোগীদের চিকিৎসা নির্বিঘœ রাখতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিবিড় তদারকি অব্যাহত রাখা উচিত।