প্রথম ম্যাচেই হোঁচট সিআর সেভেনের

Printed Edition
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে টার্গেটে একটিও শট নিতে না পারায়  হতাশ পর্তুগালের রেকর্ড গড়া রোনালদো  : ইন্টারনেট
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে টার্গেটে একটিও শট নিতে না পারায় হতাশ পর্তুগালের রেকর্ড গড়া রোনালদো : ইন্টারনেট

রফিকুল হায়দার ফরহাদ নিউ ইয়র্ক থেকে

বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করার কীর্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির মতোই ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এই পর্তুগিজ মহাতারকা এবার মাঠে নেমেছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরে। ক্লাব ফুটবলে ভূরিভূরি শিরোপার মালিক হলেও, পর্তুগালকে কখনোই বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে পারেননি তিনি। এমনকি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া বা গোল্ডেন বুট জেতার মতো আলোচনায় কখনই তার নাম আসেনি। কারণ আগের পাঁচটি বিশ্বকাপের চারটিতেই তার গোল ছিল মাত্র একটি করে। এবার আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম পাড় (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে ট্রফি নিয়ে পূর্ব পাড়ে (পর্তুগাল) ফেরার বড় আশা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন রোনালদো। কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব (ডিআর) কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই যেমন ব্যর্থ পর্তুগাল, তেমনি চরম হতাশ করেছেন সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড।

চলতি আসরে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন ও আর্লিং হলান্ডরা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই একাধিক গোল পেয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন। সেখানে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা রোনালদো পুরোপুরি ‘ফ্লপ’। আফ্রিকান দেশ কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় পুরো ম্যাচে কোনো সুবিধাই করতে পারেননি তিনি। দুইবার পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ম্যাচে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত কঙ্গোর বিপক্ষে জিততে পারেনি পর্তুগাল। তার ওপর পুরো ৯০ মিনিটে মাঠে সিআর সেভেনের ‘অসহায় দৌড়াদৌড়ি’ ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের সমালোচনায় বিদ্ধ করছে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত রোনালদোর মোট গোল সংখ্যা আটটি। গত কাতার বিশ্বকাপেও তাকে একাদশে খেলানো নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছিল, যার জন্য কোচকে সমালোচনা সইতে হয়েছিল। এবার কঙ্গোর বিপক্ষেও তিনি পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে কিছুই করতে পারেননি। ফলে রোনালদোর পাশাপাশি পর্তুগালের বর্তমান কোচও এখন নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। যেখানে মেসি, এমবাপ্পে, কেনরা গোল ও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাসের এই সাবেক ফরোয়ার্ডের ঝুলিতে রইল কেবলই হতাশা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আসরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় বেশ পিছিয়ে ছিলেন রোনালদো। কঙ্গোর বিপক্ষে গোলহীন থাকায় তিনি সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আরো পিছিয়ে গেলেন। অথচ ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতোই বিশ্বকাপের বড় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি রয়েছে রোনালদোর। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে তার মহাকাব্যিক ৩ গোলের ম্যাচটি ৩-৩ এ ড্র হয়েছিল। সেই আসরে মরক্কোর বিপক্ষে অপর গোলটিসহ মোট চারটি গোলই এক বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ। বাকি চার আসরের প্রতিটিতে তার গোল ছিল একটি করে- ২০০৬ সালে ইরান, ২০১০ সালে উত্তর কোরিয়া, ২০১৪ সালে ঘানা এবং ২০২২ সালে সেই ঘানার বিপক্ষেই গোল পেয়েছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা তারকার এমন গোল খতিয়ান নিতান্তই বেমানান। কঙ্গোর বিপক্ষে এই চরম ব্যর্থতার পর এখন ফুটবল বিশ্বের একটাই প্রশ্ন- নিজের পর্বতসম অভিজ্ঞতা দিয়ে রোনালদো কি পারবেন পর্তুগালকে টেনে তুলতে এবং নিজে গোল খরা কাটাতে? যা তিনি অতীতে বহুবার করে দেখিয়েছেন।