ওসমানীনগরে টপ সয়েল লুটের মহোৎসব

Printed Edition
ওসমানীনগরে টপ সয়েল লুটের মহোৎসব
ওসমানীনগরে টপ সয়েল লুটের মহোৎসব

মুহিব হাসান ওসমানীনগর (সিলেট)

সিলেটের ওসমানীনগরে দিন-রাত সমানতালে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা ‘টপ সয়েল’। এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাটি বিক্রির এই তাণ্ডবে জমির উর্বরতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ট্রাক থেকে পড়ে থাকা মাটিতে গ্রামীণ রাস্তাগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার তাজপুর, গোয়ালাবাজার, দয়ামীরসহ আটটি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় সবকটি হাওরে চলছে মাটি কাটার হিড়িক। গত রোববার রাতের সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় পড়ে থাকা মাটি কাদায় রূপ নেয়ায় অন্তত অর্ধশত মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। শুকনো মৌসুমে ঘরবাড়ি ও নিচু জমি ভরাটের নাম করে এক কেদার (৩০ শতাংশ) জমির উপরিভাগ ৫৫-৬০ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, যা পরে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ‘লোক দেখানো’ অভিযানের আড়ালে রাতে নির্বিঘেœ চলে এই কারবার। মফস্বলের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। কোথাও জরিমানা হলে এই সিন্ডিকেটের সবাই মিলে সেই টাকা পরিশোধ করেন। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত ট্রাকে মাটি নেয়া হলেও রাতের আঁধারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।

প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রবাসীদের কেয়ারটেকার বা বর্গা চাষিরা ‘ধান হচ্ছে না’ এমন অজুহাতে জমির মালিকদের বুঝিয়ে টপ সয়েল বিক্রি করতে উৎসাহিত করছেন। হাওরে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সময় চালক জানান, এই মেশিন মাটি ব্যবসায়ী হিরন মিয়ার। হিরন মিয়া দাবি করেন, তিনি কেবল গাড়ি ও ভেকু সরবরাহ করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামিদ তার নিচু জায়গা ভরাট করতে এই মাটি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাঁদা তুলে পুরাতন ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে উপরমহলে দিয়েছি। কোথাও জরিমানা হলে ব্যবসার স্বার্থে আমরা সবাই সমানভাবে তা ভাগ করে দিই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা বলেন, জমির টপ সয়েল অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন।

কৃষকরা যাতে এটি বিক্রি না করেন, সে জন্য আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাজপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদ বলেন, রাস্তায় পড়ে থাকা মাটির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

প্রশাসনের নিরবতায় ওসমানীনগরের কৃষিজমি এখন মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার পথে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, তিনি প্রশিক্ষণে রয়েছেন।