মেঘনার ভাঙনের মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে শঙ্কা

Printed Edition
নদী ভাঙনে হুমকির মুখে রামগতির বয়ারচরের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্র : নয়া দিগন্ত
নদী ভাঙনে হুমকির মুখে রামগতির বয়ারচরের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্র : নয়া দিগন্ত

রেজাউল হক রামগতি (লক্ষ্মীপুর)

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচরে অবস্থিত দশদাগ গ্রাম বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। নদীভাঙনের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বর্তমানে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে একটি টিনশেড ঘরে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নেদারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প (সিডিএসপি-৩) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সহযোগিতায় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এটি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির সামনের অংশের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত বর্ষায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র বেড়িবাঁধও ভেঙে যায়। ফলে জোয়ারের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছে, যদিও বিদ্যালয়টিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধিত রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বইসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ছয়জন শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আবেদন করলে ভবনটি অপসারণ বা নিলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান স্বপন জানান, বিদ্যালয়টি বেসরকারি হওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাঠদান অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ভবন সংস্কার এবং প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেয়া হোক, যাতে চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষাকার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়।