চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
- ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ : ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন
- ফসলের ক্ষতি : ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমি
মাতামুহুরী নদীর বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তিন উপজেলায় ২৭ হাজার ৭৭৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
টানা আট দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। যার মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় মোট ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবার, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৯৮১টি পরিবার এবং পেকুয়া উপজেলার ৮ হাজার ৫৬২টি পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত মাতামুহুরী ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ, মাতামুহুরীর ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ার ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ার ৬৫ শতাংশ, মহেশখালীর ৫০ শতাংশ এবং রামুর ৩৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি, বেড়িবাঁধ, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, মৎস্য খামার ও কৃষিজমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বিভাগ-১-এর আওতাধীন ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৪৪টি স্থানে ক্ষতি হয়েছে।
চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, জেলার ৬১টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও মৎস্য খামার এবং ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন সাদা মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩৫৬ মেট্রিক টন মাছের পোনা ও প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা নষ্ট হয়েছে। মৎস্য খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের সবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায়।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এ. এম. খালেকুজ্জামান জানান, বন্যায় ৩০৩টি খামারের ১ হাজার ২৯০টি গবাদিপশু এবং ৩৩০টি পোলট্রি খামারের ৯৭ হাজার ৫৮১টি হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) হিসাবে জেলায় প্রায় ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়ায়। এ ছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের হিসাবে, বন্যায় জেলার ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সব উপজেলা থেকে পাওয়া ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।



