ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেছে দু’দলেরই। তাই যে ম্যাচটি খেলার স্বপ্ন নিয়ে কেউ বিশ্বকাপে আসে না, সেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। আজ যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদকের এই লড়াই।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয় ফ্রান্সের। অন্য দিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ফলে দুই দলই এখন মর্যাদার লড়াইয়ে অন্তত তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর ১৪ বছরের অধ্যায়ের ইতি টানবেন এই ম্যাচ দিয়েই। তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়া এবং টানা তিনটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার মতো সাফল্য পেয়েছে ফ্রান্স।
তবে বিদায়টা তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে করতে চাইলেও তা আর সম্ভব হয়নি। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে কৌশলগত সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েন দেশম। এমনকি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও ম্যাচ শেষে দলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবু শেষ ম্যাচে দলকে জয় এনে দিয়ে বিদায় নিতে চাইবেন অভিজ্ঞ এই কোচ। এর আগে ১৯৫৮ ও ১৯৮৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল ফ্রান্স। ১৯৮২ সালে অবশ্য চতুর্থ হয়েছিল।
অন্য দিকে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের ওপরও চাপ কম নয়। বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব নেয়া জার্মান কোচ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড বলের দখল ছেড়ে দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিওনেল মেসির দু’টি দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে দেয়।
পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের হতাশার চিত্র তুলে ধরছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা দলের বিপক্ষে সাতটি ম্যাচ খেলেও একটিতেও জিততে পারেনি থ্রি লায়ন্স। এ ছাড়া একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এগিয়ে থেকেও বিদায় নেয়ার ঘটনা মাত্র দু’টি আর দু’টিই ইংল্যান্ডে। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এবং এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।
ফ্রান্সের রক্ষণভাগে বড় ধাক্কা হতে পারেন উইলিয়াম সালিবা। স্পেনের বিপক্ষে পিঠের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্সেনালের এই ডিফেন্ডার। তার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে তার জায়গায় ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ইব্রাহিমা কোনাতে ও দায়ো উপামেকানোর মধ্যে একজনকে রক্ষণে দেখা যেতে পারে।
ইংল্যান্ডও রিস জেমসকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। সেমিফাইনালে পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এই ডিফেন্ডার। তার অনুপস্থিতিতে জ্যারেল কোয়ানসাহ বা জেড স্পেন্স সুযোগ পেতে পারেন। মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনও কব্জির চোটের কারণে এখনো বাইরে রয়েছেন। এ ছাড়া জুড বেলিংহামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কিছু আলোচনা চলছে।
দলীয় সাফল্যের আশা শেষ হলেও ব্যক্তিগত অর্জনের সুযোগ রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে আট গোল করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে তিনি এখনো লিওনেল মেসির সাথে সমানতালে লড়ছেন। গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টের হিসাবে বর্তমানে মেসি এগিয়ে থাকলেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করলে এমবাপ্পের সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামেরও ছয়টি করে গোল রয়েছে। তারা খেললে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই গুরুত্বহীন বলে মনে করলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সম্মান এবং অতিরিক্ত অর্থ পুরস্কার। বিজয়ী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ব্রোঞ্জ জিততে পারলে অতিরিক্ত ২০ লাখ ডলার বেশি পাবে বিজয়ী দল।
সব মিলিয়ে ফাইনালের হতাশা ভুলে অন্তত বিশ্বকাপ শেষটা জয় দিয়ে রাঙাতে চাইবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। একদিকে থাকবে দেশমের বিদায়কে স্মরণীয় করার চেষ্টা, অন্য দিকে টুখেলের জন্য থাকবে সমালোচনার জবাব দেয়ার সুযোগ। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে এটি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হলেও দুই দলের জন্যই এটি মর্যাদা পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।



