লক্ষ্যভ্রষ্ট এমবাপ্পে, যা অর্জন স্পেনের

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

উত্তর আমেরিকায় শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে এসেছিল ফ্রান্স। ২০১৮ আসরে শিরোপাজয়ী দলটি ২০২২ সালে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছিল। কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলমান আসরে প্রতাপ দেখিয়েই ছুটছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। সেমিফাইনালের আগে আসরে সাত ম্যাচের প্রতিটিতেই লক্ষ্যে শট ছিল এই ফরোয়ার্ডের। আটবার জালে বল পাঠিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের তালিকায়ও লিওনেল মেসির সাথে লড়াইয়ে ছিলেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার। কিন্তু বিশ্বকাপের স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ের ম্যাচে একটিও লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি এমবাপ্পে। সেই হতাশা ভর করেছে দলেরও।

ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনবার ফাইনাল খেলার সুযোগ ছিল ফ্রান্সের সামনে। জার্মানি ১৯৮২-১৯৯০ এবং ব্রাজিল ১৯৯৪-২০০২ টানা তিন আসরে ফাইনাল খেলেছিল। টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দিদিয়ের দেশমের দল। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর বিশ্বকাপে টানা আট ম্যাচে লক্ষেথ্য শট রেখেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে স্পেনের বিপক্ষে। তবে একটি জায়গায় এখনো এগিয়ে আছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলমান আসরে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসির সমান ৮ গোল এমবাপ্পের। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় এখনো গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে অবস্থান ফরাসি অধিনায়কের (যদি গত রাতে মেসি কোনো গোল না পেয়ে থাকেন)।

ফ্রান্সকে ২-০তে হারিয়ে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। সেই সাথে গড়েছে অনেক কীর্তি। দলের সাথে অর্জন ধরা দিয়েছে খেলোয়াড়দেরও।

ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যান মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল ২০১০ সালে স্পেন শিরোপা জয়ের পর দ্বিতীয়বার ফাইনালে জায়গা করে নেয়া। ১৯৭৪ সালে প্রথম ইউরো শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপ জয় করেছিল জার্মানি। এই কীর্তি দ্বিতীয়বার করে দেখিয়েছিল ২০১০ সালে স্পেন। এবার দলটির সামনে আবার সুযোগ এসেছে ইউরোপ সেরার পর বিশ্বকাপ ট্রফিও ঘরে তোলার।

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত থাকল স্পেন। ২০০৬ সালে শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে হারের পর আর পরাজয় দেখতে হয়নি দলটিকে। আর সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত লা রোজারা। এ সময়ের মধ্যে দলটি ২৮ জয়, ৯টি ছিল ড্র। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইউরোপিয়ান দল হিসেবে যৌথভাবে ইতালির সাথে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড এটি। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ইতালি।

বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে যেকোনো এক আসরে ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার রেকর্ড গড়েছে স্পেন। বিশ্বকাপের যেকোনো আসরে সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট রাখার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। তৃতীয় স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচ বা এর বেশি গোল করলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এর আগে ২০১০ সালে ডেভিড ভিয়া ও ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগেনিয়ো পাঁচটি করে গোল করেছেন। এবার সেমিফাইনালের গোল নিয়ে ৫টি গোল হলো ওয়ারজাবালের। বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি ১৭ গোল করেছে স্পেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি করে গোল করেছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। ১৯৮০ সালের পর মেজর টুর্নামেন্টে যৌথভাবে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন দানি ওলমো। তার সমান সংখ্যক অ্যাসিস্ট করেছেন সেস ফ্যাব্রিগাস।

শেষ ৬০ বছরে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পেনাল্টি আদায় করে নেন ইয়ামাল (১৯ বছর ১ দিন)। এর আগে ১৯৯৮ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে পেনাল্টি আদায় করেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন (১৮ বছর ১৯৮ দিন)।